Homeউত্তরবঙ্গদুর্গম, মায়াবী শৃঙ্গজয়ের হাতছানি

দুর্গম, মায়াবী শৃঙ্গজয়ের হাতছানি

অভিষেক সেনগুপ্ত, জলপাইগুড়ি: চরম দুর্গমতার পাশাপাশি রহস্যময়ী লোককথা। পরীর ক্ষোভ। হিমাচল প্রদেশের লাহুল-স্পিতি জেলার কাজা অঞ্চলে অবস্থিত দুর্গম শৃঙ্গ ‘চাউ চাউ কাং নিলদা’ (সিসিকেএন) শৃঙ্গ যেন রহস্যের খনি। এবারে এই শৃঙ্গে জাতীয় ও সংস্থার পতাকা তুলতে চায় জলপাইগুড়ি নেচার অ্যান্ড ট্রেকার্স ক্লাব। আগামী ৩১ মে অভিযাত্রীদের হাতে জাতীয় পতাকা ও ক্লাবের পতাকা তুলে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযানের সূচনা করা হবে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬,৩০৩ মিটার (২০,৬৭৯ ফুট) উচ্চতায় অবস্থিত দুর্গম শৃঙ্গজয় রীতিমতো চ্যালেঞ্জের বলে মানছেন অভিযাত্রী দলের নেতা ভাস্কার দাসও।

১১ জনের অভিযাত্রী দল।

গুয়ান নেলদা বা আকাশের নীল চাঁদ। স্থানীয়রা এই নামেই ডাকেন। ১৯৩৯ সালে জে.ও.এম. রবার্টস (জেমস ওয়েন মেরিয়ন রবার্টস) প্রথম এই শৃঙ্গ আরোহণ করেন। লোককথা অনুযায়ী, এক ব্যক্তি চাউ চাউ কাং নিলদার এক পরীর প্রেমে পড়েছিলেন। পরীটি তাকে অনুরোধ করেছিল, যেন সে তাদের সম্পর্কের কথা কারও কাছে প্রকাশ না করে। কিন্তু একদিন, অজান্তেই সে তার স্ত্রীর কাছে সেই গোপন কথা বলে ফেলে। ফলে সেই পরী ক্ষুব্ধ হন। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, আজও যখনই কেউ এই শৃঙ্গ আরোহণের চেষ্টা করে, তখনই আবহাওয়া হঠাৎ খারাপ হয়ে ওঠে। কোনো মানুষকে আর তার কাছে আসতে দিতে চান না সেই পরী। তবে এবারে জলপাইগুড়ির ওই ক্লাবের ১১ সদস্যের লক্ষ্য শৃঙ্গ জয়ের। দলের নেতৃত্বে রয়েছেন অভিজ্ঞ পর্বতারোহী ভাস্কর দাস। দলের অন্যান্য সদস্যরা হলেন অমিত দাস, জনক কোচ, সৌম্যদীপ দাস, জয়ন্ত সরকার, বিজয় চক্রবর্তী, হিল্লোল রায়, অরিন্দম জানা, সৌম্যদীপ জানা, রাগেশ্রী বৈশ্য এবং ডঃ প্রাপ্তি রায়। শনিবার বাবুপাড়ার ওই ক্লাব ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন সহ সভাপতি মিহির বন্দ্যোপাধ্যায়,সম্পাদক দীপঙ্কর পুরকায়স্থ, বিপ্লব বসাক-সহ অন্য পদাধিকারীরা। তারা জানান, ১৯৮৮ সালে স্থাপিত উত্তরবঙ্গের এই সংস্থা ইতিমধ্যেই হিমালয়ের বিভিন্ন অঞ্চলে ১১টি সফল শৃঙ্গ অভিযান সম্পন্ন করেছে। এবারের অভিযানের বাজেট প্রায় ছয় লক্ষ টাকা।

ভাস্কর দাস, পর্বতারোহী দলের নেতা।

ভাস্কর দাস বলেন, “পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৮ জুন প্রায় ১৭,৪০০ ফুট উচ্চতায় বেস ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। এরপর আরও দুটি উচ্চতায় ক্যাম্প গড়ে তুলে ধাপে ধাপে শৃঙ্গের দিকে এগোবেন অভিযাত্রীরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ১৩ বা ১৪ জুন শৃঙ্গ জয়ের চেষ্টা করা হবে। ২০ই জুন জলপাইগুড়িতে আমাদের ফিরে আসার কথা।”

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments