অভিষেক সেনগুপ্ত, জলপাইগুড়ি: বলে-বলে ৭ গোল। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে এমন নজির নেই জলপাইগুড়িতে। গতবার বিধানসভায় চারটি আসন পায় তৃণমূল। এবারে খালি ঝুলি নিয়েই ফিরতে হচ্ছে তাদের। গেরুয়া ঝড়ে উড়ে গিয়েছে ধূপগুড়ি থেকে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির আসন। সাড়া জাগিয়েও হেরেছেন সোনার মেয়ে স্বপ্না র্বমণ, জলপাইগুড়ির দাপুটে বিধায়ক প্রার্থী কৃষ্ণ দাস, ডুয়ার্সের একসময়ের অবিংসংবাদী তৃণমূল নেতা। প্রথম কশেক রাউন্ড গণনার শেষেই ছবিটা পরিস্কার হতে থাকে। দুপুরের পর থেকেই গেরুয়া আবির খেলায় মাতেন পদ্ম শিবিরের নেতা কর্মীরা।
রোদ উঠলেও সোমবার জলপাইগুড়ির আকাশে মেঘের অল্পবিস্তর উপস্থিতি। এদিন ভোর হতেই চরম ব্যস্ততা জলপাইগুড়ির ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ চত্বরে থাকা উত্তরবঙ্গ বিশ্ব বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে। জেলার ৭টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি, রাজগঞ্জ, জলপাইগুড়ি সদর, ময়নাগুড়ি ও ধূপগুড়ি, এই ৫টি আসনের গণনা হল এখানেই। নাগরাকাটা ও মালবাজারের ভোট গণনা হয় পরিমল মিত্র কলেজে। এদিন সকাল থেকেই কড়া নিরাপত্তা চাদরে মোড়া হয়েছে কাউন্টিং সেন্টার। নির্দিষ্ট পাস, মোবাইল পরীক্ষার পাশাপাশি তামাক জাতীয় নেশাদ্রব্য নিয়ে প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা ছিল।

এদিন ভোট গণনা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পর থেকেই এগিয়ে যেতে থাকেন বিজেপি প্রার্থীরা। মাইকে ঘোষণা হতেই উল্লাসে মেতে ওঠেন গণনাকেন্দ্রের থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে থাকা গেরুয়া শিবিরের নেতা কর্মীরা। ম্রিয়মান দেখালেও শেষ আশায় বুক বেঁধেছিলেন জোড়াফুলের সমর্থকেরাও। এশিয়াডে সোনাজয়ী স্বপ্না বর্মণকে রাজগঞ্জ আসনে প্রার্থী করে চমক দিতে চেয়েছিল জোড়াফুল শিবির। কিন্তু সে পন্থা খাটেনি। পঞ্চম রাউন্ডের গণনা শেষে স্বপ্না ১৭ হাজারেরও বেশি ভোটে পিছিয়ে রয়েছেন। ধূপগুড়িতে বিজেপি ১৮১১৯ ভোটে, ময়নাগুড়িতে বিজেপি ১৭৪৪৩ ভোটে, ডাবগ্রাম ফুলবাড়িতে বিজেপি ৩০৪২৩ ভোটে, মাল বিধানসভায় বিজেপি ৯৯০৮ ভোটে, নাগরাকাটায় বিজেপি ৩৯৩৯ ভোটে এগিয়ে রয়েছে। জলপাইগুড়ির দাপুটে তৃণমূল নেতা কৃষ্ণ দাস নিজেও পিছিয়ে রয়েছেন ১০৮৮৮ ভোটে। এদিন বিকেলে এক সভায় মোদি বলেন, “৪ মে পরিণাম নয়, বাংলায় পরিবর্তন হবে।” ১৫ বছর পরে ফের পালাবদল হল রাজ্যে। ২০১১ সালে বামেদের ৩৪ বছরের রাজত্বকে হঠিয়ে ক্ষমতায় আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দেড় দশক পর ফের পালাবদল। সবুজ নয়, গেরুয়া আবিরে ঢাকল শহর জলপাইগুড়ির আকাশ। ম্রিয়মান দেখাল তৃণমূল শিবিরকে।


