অভিষেক সেনগুপ্ত, জলপাইগুড়ি: তৃণমূলের ‘গুন্ডা-নেতাদের’ জন্য বিশেষ সতর্কতা। অত্যাচারিত জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়ে জেলা ছেড়ে চলে যাওয়ার নিদান দিলেন বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপি গোস্বামী। তার কথায়, জেতার পরে বিজেপি বদলার পথে যাবে না। তৃণমূলের পার্টি অফিসে হামলা,দখলও করা হবে না। প্রশাসন নিরপেক্ষ কাজ করবে। কিন্তু জনরোষের ঘটনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তার দায় কিন্তু ভাজপা নেবে না। বাপির ইঙ্গিত, তৃণমূলের দাপুটে নেতা কৃষ্ণ দাস, লতিবুল ইসলাম বলে কয়েকজনের দিকে।

তিস্তাপারের শহরে অভাবনীয় জয়। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জেলায় সরাসরি ৭-০ ও জেলার সাংগঠনিকভাবে ৮-০ ব্যবধানে জোড়াফুল শিবিরকে হারাল গেরুয়া শিবির। জল্পনা উড়িয়ে খাতাই খুলতে পারলো না তৃণমূল। মঙ্গলবার দুপুরে জেলার ডিবিসি রোডের জেলা কার্যালয়ে বিজয়ী বিধায়কের নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপি গোস্বামী, সাংসদ ডা. জয়ন্ত রায় ও জেলা সভাপতি শ্যামল রায়। মঞ্চে ছিলেন জলপাইগুড়ির বিধায়ক অনন্তদেব অধিকারী, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়-সহ অন্য বিধায়কেরাও। বিজয় কর্মসূচিতে রইলেন পার্টির নেতা কর্মীরাও। চলল মিষ্টিমুখও। বাপি বলেন, “নতুন সরকারে দ্বিতীয় কোনও কৃষ্ণ দাসের জন্ম হবে না। সুস্থ রাজনৈতিক বাতাবরণে রাজনীতি হবে। দলের কোনও নেতা-কর্মী বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করলে তা বরদাস্ত করা হবে না। ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস শ্যামাপ্রসাদের পুন্যভূমিতে চলবে না। সবাই আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচতে পারবেন।” সাংসদ বলেন, “ডাবল ইঞ্জিনের সুবিধা জলপাইগুড়ি পাবে। সুন্দর ও উন্নত সমাজ গড়ে তুলবো।মডেল শহর হবে।” জেলা সভাপতি শ্যামল রায় বলেন,”সাংগঠনিক জেলার ৮টি আসনে বিপুল জয়। শেষ ১৫ বছরে অপশাসনের নগ্নরূপ দেখা দিয়েছে। প্রতিটি পেশা আক্রান্ত। প্রশাসনকে বলব নিরপেক্ষ কাজ করতে।” সকালে বিজেপি রাতে তৃণমূলের আসরে থাকা নেতাদের কোনও জায়গা হবে না বলেও জানান নেতারা। বিজেপির কিছু সমর্থকের ওপর হামলা চালিয়েছেন বলেনঅভিযোগ কৃষ্ণের বিরুদ্ধে। কয়েকজন চিকিৎসাধীনও রয়েছেন বলে অভিযোগ বিজেপির।

এ বিষয়ে তৃণমূলের জলপাইগুড়ি সদরের বিধায়ক প্রার্থী কৃষ্ণ দাসকে বারকয়েক ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। মূল প্রসঙ্গ এড়িয়ে, তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান খগেশ্বর রায় বলেন, “দেশে-রাজ্যে আইন রয়েছে। আইন আইনের পথেই চলবে।”


