অভিষেক সেনগুপ্ত ও অমিত বণিক, জলপাইগুড়ি: আত্মবিশ্বাস আর সঠিক টেকনিকেই বাজিমাত। চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও দেশে তৃতীয় স্থান অর্জন করলেন বাংলা বিশেষভাবে সক্ষম (Deaf) মহিলা ক্রিকেট দলের সদস্যারা। তাদের ব্রোঞ্জ পদকপ্রাপ্তি সঞ্চার করেছে নতুন সম্ভাবনার।

শুরু থেকেই ছিল দাপট—গ্রুপ পর্বে তামিলনাড়ু, গুজরাট ও বিহারকে একের পর এক হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠে বাংলা। প্রতিটি ম্যাচে ফুটে উঠেছিল দলের আত্মবিশ্বাস, সংযম আর জয়ের তীব্র ইচ্ছা। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে একাধিক ক্রিকেটার নজর কেড়েছেন। সায়ন্তনী রায় ব্যাট ও বল দুই হাতে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখান। বিদ্যা সরকার তাঁর ধারালো বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে বারবার চাপে ফেলেছেন এবং ‘প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ’ সম্মান অর্জন করেছেন। সোনালী বিশ্বাস ও ভগবতী রায় নীরবে কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে দলের ভিত মজবুত করেছেন। অন্যদিকে অধিনায়ক দীপা মণ্ডল নিজের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স দিয়ে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আর মীনা হালদার ও ঋতু মণ্ডলও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দায়িত্ব নিয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু বিধি বাম। বৃষ্টিবিঘ্নিত সেমিফাইনালে কেরলের কাছে হেরে যান তারা। তবে, তৃতীয় স্থানের লড়াইয়ে মরিয়া লড়াই দেয় টিম। দেরাদুনে ৪র্থ জাতীয় শ্রবণ প্রতিবন্ধী মহিলা ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ৪ রানে হারিয়ে জয়ী হয় তারা। এই বাংলা টিমে স্থান পেয়েছেন জলপাইগুড়ির বেশ কিছু মহিলা ক্রিকেটার।

জলপাইগুড়ি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সচিব ভোলা মণ্ডল বলেন, ” এই বাংলা দলে জলপাইগুড়ি থেকে অধিনায়ক-সহ চার জন প্রতিনিধিত্ব করেছে। ওরা ওদের সেরাটা দিয়েছে। এটা অভাবনীয় সাফল্য। সংস্থার তরফে আমরা বরাবরই ওদের পাশে থাকি। আগামীতে জলপাইগুড়ি জেলার এমন ক্রিকেটারদের জন্য আধুনিক মানের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করব।”


