জলপাইগুড়ি: প্রতিশ্রুতিই সার। আষাঢ়ের ভরা বর্ষায় অর্ধসমাপ্ত সেতু নিয়ে বিপাকে শ্রমিক মহল। বাঁশের সাঁকোয় চলছে ঝুঁকির পারাপার। ১ মাসের মধ্যে কাজ শেষের আশ্বাস দেওয়া হলেও তা পূরণ হয়নি। মঙ্গলবার দাবিপূরণে সদর ব্লক অফিসের সামনের রাস্তা অবরোধ করলেন করলাভ্যালি চা বাগানের বাসিন্দারা। দাবি আদায়ে আন্দোলনের রাশ নিজেদের হাতে তুলে নিল বাম নেতৃত্ব।

সদর শহর লাগোয়া করলাভ্যালি চা বাগান যেন ‘এক টুকরো’ নেই রাজ্য। ওই বাগানের চড়কডাঙি লাইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু দীর্ঘদিন ধরেই চলাচলের অযোগ্য। বহু আবেদন, নিবেদনে কাজ না হওয়ায় আন্দোলনের পথ বেছে নেন চা শ্রমিকেরা। তৎকালীন বিডিও মিহির কর্মকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত কাজের প্রক্রিয়া শুরু করেন। গত বছর শ্যামাপুজোর সময় থেকে শুরু হয় কাজ। তবে, বর্তমানে অজ্ঞাত কারণে বন্ধ হয়ে রয়েছে সেতুর কাজ। আর এতেই আষাঢ়ের প্রবল বর্ষণে যাতায়াত যন্ত্রণার শিকার হচ্ছেন কচিকাঁচা, বৃদ্ধ থেকে সবাই। অভিযোগ, ইতিমধ্যেই ঘুরপথে যাতায়াতে রেলে কাটা পড়ে এক শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
এদিন শ্রমিকদের পথ অবরোধের জেরে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ এলে প্রথমে বচসা ও পরে ধস্তাধস্তিও হয় পুলিশের সঙ্গে বলে অভিযোগ। পরে পরিস্থিতি সামাল দেন কোতয়ালি থানার আইসি। তার অনুরোধে পথ অবরোধ তুলে বিডিও-র চেম্বারের সামনে অবরোধ করেন তারা। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথাও বলেন বিডিও। পরে ব্লক প্রশাসনের তরফে কাজ শেষ করে সেতু চালু করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলে অবরোধ উঠে যায়। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যা তথা সিসিএম নেত্রী রবিনা মুণ্ডা বলেন, ‘বর্ষায় নদীতে জল বেড়েছে। অসুস্থ মানুষকে নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে সমস্যা হচ্ছে। পড়ুয়ারাও বিপাকে পড়ছে।’ চা মজদুর ইউনিয়নের ওই বাগানের ইউনিট সম্পাদক গোবিন ওরাওঁ বলেন, ‘প্রতিশ্রুতি মতো কাজ শেষ না হলে বড় আন্দোলন হবে।’

সিটুর জেলা সম্পাদক শুভাশিস সরকার বলেন, ‘এত দিনেও কেন কাজ শেষ হল না, তা বোধগম্য নয়। শ্রমিকদের স্বার্থেই ব্রিজের কাজ দ্রুত শেষ হওয়া প্রয়োজন।’


