বিশেষ সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: শহরে কর্মীসভায় এসে তৃণমূলকে তোপ সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের। ছেড়ে কথা বললেন না বিজেপিকেও। খেটে খাওয়া মানুষদের একত্রিত করে দলকে মজবুত করার কথাও বলেন তিনি।

শনিবার শহরের সমাজপাড়াস্থিত রবীন্দ্র ভবনে আয়োজিত কর্মীসভায় দলের রাজ্য সম্পাদকের পাশাপাশি হাজির ছিলেন দলের রাজ্য কমিটির সদস্য সলিল আচার্য, জেলা সম্পাদক পীযুষ মিশ্র, বর্ষীয়ান বাম শ্রমিক নেতা জিয়াউল আলম প্রমূখ। সেলিম বলেন, ‘এবারে দুর্নীতি, স্বজনপোষণ, তোলাবাজিতে অতিষ্ট হয়ে মানুষ তৃণমূলকে ঝেড়ে ফেলেছে। অনেকেই ভাবছেন, আপদ গেল। কিন্তু আপদ গেলেও বিপদ বেড়েছে।’ তার আরও সংযোজন, একসময়ে আরএসএস ও বিজেপি তৃণমূলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে, তালগোল পাকিয়ে, বামেদের হটানোর চেষ্টা করে। রেলের উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধেও মুখ খুলতে দেখা যায় এই প্রবীণ বাম নেতাকে। সেলিম আরও জানান, কেন্দ্রের পররাষ্ট্র নীতি ভ্রান্তিতে ভরা। কর্পোরেট মালিকদের এজেন্ট হিসাবে কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী। এদিকে ডবল ইঞ্জিনের সরকার নাম করে যে সরকার পশ্চিমবঙ্গের বুকে ক্ষমতায় এসেছে তারা আসলে ফ্যাসিস্ট কায়দায় চলতে আগ্রহী বলে অভিযোগ জানান সেলিম। পরে, জেলার সাংগঠনিক পরিস্থিতি ও চা বাগান থেকে ডুয়ার্সের জনপদ কৃষি এলাকা, শহর গ্রাম সর্বত্র খেটে খাওয়া মানুষদের চলমান সমস্যাগুলি নিয়ে বক্তব্য রাখেন সলিল আচার্য। তিনি বলেন, ‘সমস্যা সমাধানের জন্য সিপিএম নেতৃত্বকে আন্দোলন করার আহ্বান জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। জিয়াউল আলম বলেন, ‘তৃণমূলের ১৫ বছরের অপশাসনের সমাপ্তি হওয়ায় সবাই স্বস্তি পেয়েছে। তবে, বর্তমান সরকারের বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত জনস্বার্থ বিরোধী। কোলকাতার বুকে হকার উচ্ছেদ, রেলের জমি থেকে বস্তি উচ্ছেদের মাধ্যমে এই সরকার বুঝিয়ে দিচ্ছে শ্রমজীবী মানুষের ভোটে এই সরকার গঠিত হলেও তারা কাজ করবে আদানি-অম্বানি-সহ কর্পোরেট হাউজের জন্য। এদিনের কর্মীসভায় জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলীয় কর্মী, সমর্থকেরা হাজির হন। মানুষের নিজস্বতা ও সংস্কৃতিকে ধরে রাখার কাজ বামপন্থীরা করবেন বলেও জানান বক্তারা।


