অভিষেক সেনগুপ্ত, জলপাইগুড়ি: এক ছাতার তলায় অবশেষে উত্তরের চিত্রশিল্পীরা। সঙ্গে রইলেন ভিন রাজ্যের চিত্রকরেরাও। তিস্তা-তোর্সা-মহানন্দার সঙ্গে মিললো ব্রহ্মপুত্রের সৃজনশীলতা। শুক্রবার পুরসভার প্রয়াস হলে হল মেলবন্ধন। বিশ্বের দরবারে এই অঞ্চলের সৃষ্টিকর্মকে তুলে ধরার প্রয়াস নেওয়া হল এই অনুষ্ঠানে।

বর্ষার নিকষ কালো মেঘের গোধূলিতে সংক্ষিপ্ত জীবনী নিয়ে উড়ে বেড়ায় প্রজাপতি। আর, শিল্পীর সাদা ক্যানভাসে তারা অমর। এই সৃষ্টি সত্তাই মানবিক করেছে শিল্পীসত্ত্বাকে। আকাচে উড়ে যাওয়া পেঁজা তুলোর মতো মেঘ বন্দী হয় চিত্রকরের রংতুলিতে। শখ মেটাতে হয়তো বা পান্তা ফুরোয়। ছিটেফোটা সরকারি অনুদান। তার মাঝেও শখ পূরণের স্পৃহা। চিত্রশিল্পীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নিজেরাই গড়ে তুলেছেন সংগঠন। সেই মেলবন্ধনই দেখা গেল তিস্তাপারের সংস্কৃতির শহরে।

এদিনের অনুষ্ঠানে দীপঙ্কর বসু বিশ্বাস, অমরনাথ নন্দী-সহ স্থানীয়দের সঙ্গে রইলেন অসমের চিত্রশিল্পী স্মিতা সইকীয়া,মহাবাহু শিল্পকলা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ তরুণ কুমার মিত্র,দিনহাটার রথীব্দ্র নাথ সরকার, ধুবড়ি প্রেস ক্লাবের সভাপতি রাজীব শর্মা প্রমূখ। জলপাইগুড়ি প্রেস ক্লাবের সম্পাদক শান্তনু কর বিশেষ কারণে আসতে না পারায় শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান। নাচে, গানে, স্ব-রচিত রচনা নিজস্ব সংস্কৃতি তুলে ধরেন উপস্থিত সাহিত্যিকেরা। চেম্বার অব কমার্সের উপদেষ্টা অলোক সুধীর সরকার চিত্রশিল্পের ভবিষ্যত অগ্রগতি নিয়ে মন্তব্য পেশ করেন।

চিত্রশিল্পের প্রসারে অবদান রাখায় জলপাইগুড়ি প্রেস ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ অভিষেক সেনগুপ্ত ও সদস্য পিনাকী শীল-সহ অন্যদের সম্মানণা প্রদান করা হয়। বর্ষীয়ান চিত্রশিল্পী নীহার মজুমদারকে তার অবদানের স্বীকৃতিও প্রদান করা হয়। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে উত্তরের শিল্পকর্মকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান তিনি।

আয়োজকেদের তরফে দীপঙ্কর বসু বিশ্বাস, অমরনাথ নন্দী জানান, আন্তর্জাতিক আর্ট ম্যাগাজিত ‘রঙিন ডাঙা’ চতুর্থ বছরে পড়ল। উইংস গ্রুপের ছত্রছায়ায় এই কর্মসূচি চলছে। প্রতিভাব চিত্রশিল্পীরা নানা কারণে পিছিয়ে রয়েছেন। তাদের এক ছাতার তলে এনে বৃহত্তর আঙ্গিকে এনে বড় ধরণের কর্মকান্ত করা হবে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে উত্তরের সংস্কৃতি এক নয়া দিশা দেখাবে। নতুন সরকারের আমলে মিটবে সমস্যা। আশার আলো দেখছেন চিত্রকরেরা।


