অভিষেক সেনগুপ্ত, জলপাইগুড়ি: উত্তরের আট-আটটি জেলা। প্রাকৃতিক ও মানব সম্পদে ভরপুর তিস্তা-মহানন্দা-তোর্সা-কালজানি বিধৌত অঞ্চল। প্রকৃতি ও মানবজীবনের বিভিন্ন আঙ্গিক ফুটিয়ে তোলার শিল্পীর অভাব না থাকলেও, নেই কোনও সরকারি আর্ট কলেজ। রাজ্যে পালাবদল হতেই উত্তরবঙ্গের যে কোনও জায়গায় আর্ট কলেজ স্থাপনের জোরাল দাবি উঠল। এর পাশাপাশি, রাজ্য চারুকলা পর্ষদের আঞ্চলিক কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়েও আলোচনা হয়। সোমবার শহরের এক ভবনে জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, কালিম্পং, মালদা, কোচবিহার, দুই দিনাজপুর-সহ আট জেলার শিল্পীরা প্রতিনিধিত্বমূলক আলোচনায় অংশ নেন। পরবর্তীতে প্রশাসন ও রাজ্য সরকারের দ্বারস্থও হতে চলেছেন তারা। এদিন দাবি পূরণের লক্ষ্যে নবীন-প্রবীণ শিল্পীদের মিলিয়ে এক কমিটিও গঠন করা হল।

গঙ্গার ওপারে ৬টি সরকারি আর্ট কলেজ ভালো ভাবে চলছে। স্বাধীনতার প্রায় ৮ দশক বাদেও উত্তরবঙ্গে গড়ে উঠেনি সরকারি আর্ট কলেজ। উত্তরের প্রান্তিক ও প্রতিভাবান শিল্পীরা আর্থিক-সহ নানা কারণে দক্ষিণবঙ্গের আর্ট কলেজে গিয়ে পাঠ নিতে পারেন না। তাদের কথা ভেবেই, নতুন সরকারের কাছে আবেদন রাখতে চলেছে উত্তরের বৃহত্তর শিল্পী মহল। এদিনের কর্মসূচিতে জলপাইগুড়ি থেকে বর্ষীয়ান চিত্রশিল্পী নীহার মজুমদার, দীপঙ্কর বসু বিশ্বাস, অমরনাথ নন্দীরা বক্তব্য রাখেন। কোচবিহারের পিয়াস গোস্বামী, রায়গঞ্জের শিবশঙ্কর উপাধ্যায়, মালদহের মৃণাল দে-সহ অন্য শিল্পীরাও তাদের ভাবনা ব্যক্ত করেন। শিল্পীদের একাংশের অভিমত, বিভাগীয় শহর ও প্রাকৃতিক ও মানব সম্পদে পরিপূর্ণ জলপাইগুড়িতেই আর্ট কলেজ হলে সব দিক থেকেই ভালো হয়।


পরে, সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নীহার মজুমদার বলেন, ‘উত্তরবঙ্গের কোথায় কলেজ ও আঞ্চলিক কেন্দ্র হল সেটা বড় কথা নয়। এখান শিল্পসত্ত্বা পরিপূর্ণতা পাক, কর্মসংস্থান হোক এটাই আসল।’ তার আরও সংযোজন, আট জেলার জনগণকে সচেতন করে, জন প্রতিনিধিদের মাধ্যমে আমরা রাজ্য সরকারের কাছে দাবি জানাবো।
দাবিপূরণের লক্ষ্যে জনপ্রতিনিধি ও রাজ্য সরকারের দ্বারস্থ হতে চলেছেন তারা।


