নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: টালবাহানা চলছিল বিগত কয়েকদিন ধরেই। অবশেষে পুরসভার চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করলেন সৈকত চট্টোপাধ্যায়। অনাস্থা বৈঠক শুরু হওয়ার আগেই তিনি পদত্যাগ করেন তিনি। কালীঘাটপন্থী তৃণমূল কাউন্সিলারদের চাপেই এই পদতয়াগ বলে সূত্রের খবর। যদিও পরে অনাস্থায় ১৬-১ ভোটে অপসারিত হন তিনি। এই ঘটনার পরেই উচ্ছ্বাসে মাতেন অনেকে।

সৈকতের পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার খবর চাউর হতেই শহরের পরিস্থিতি বদলে যায়। অতি উৎসাহী যুবক,তরুণ, যুবতীদের একাংশ পুরভবনের সামনেই আতশবাজি ফাটিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন। পুরসভার প্রশাসক হিসেবে সদর মহকুমাশাসক মঈন খানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর। ভেঙে দেওয়া হয় বোর্ড অব মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলারও। শহরের পুর এলাকার বাসিন্দারাই এই চেয়ারম্যানের অপসারণ চেয়েছিলেন বলে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল কাউন্সিলারদের একাংশ এদিন জানান।

একসময়ে সৈকত-সন্দীপের দ্বৈরথ চরমে ওঠে। পদ থেকে সরে দাঁড়ান সন্দীপ। সন্দীপ মাহাতো বলেন, ‘মিটিংয়ে আমরা ওকে অপসারিত করেছি। এটা একক সিদ্ধান্ত নয়। সমষ্টিগতভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১৬ জন ওনার বিপক্ষে গিয়েছেন। ১ জন নীরব ও এক জন ওর পক্ষে গিয়েছেন। উনি যে পদত্যাগ করেছেন তা পরে জানা গিয়েছে।’

অপরদিকে বিদায়ী চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, তিনি পুর এলাকার উন্নয়নে সচেষ্ট ছিলেন। রীতিমতো চক্রান্ত করে তাকে সরানো হল।
কংগ্রেস কাউন্সিলার তথা নেতা অম্লান মুন্সি বলেন, “তৃণমূলের অন্তর্নিহিত লড়াইয়ের পরিসমাপ্তি ঘটল। তবে, পরিষেবা না পেয়ে মানুষ পরাজিত হল।”

বিজেপির জেলা কার্যকরী কমিটির সদস্য সৌজিত সিংহ বলেন, “ওর সম্পর্কে আর নতুন করে কি বলবো। যখন সৈকত নিজেকে ‘শের’ মনে করত তখন ওকে আমি জেলে ঢুকিয়েছিলাম। পদ গিয়েছে, দুর্নীতির তদন্তও হবে। ঐতিহ্যবাহী জলপাইগুড়ি শহরের কলঙ্ক ও শাপমুক্তি কিছুটা হলেও ঘটল।”


