জলপাইগুড়ি: বিশ্ব পরিবেশ দিবসে বিতর্কিত জমিতে গাছ লাগিয়ে পরিবেশ বাঁচানোর বার্তা দিলেন শহরের পরিবেশপ্রেমীদের একাংশ। স্পোর্টস কমপ্লেক্স লাগোয়া করলা নদীর পশ্চিম পাড়ের ওই বিস্তীর্ণ জমিটি আদপে জলাজমি। ওই জলাজমির চরিত্র বদল করে বেআইনি ভাবে বহুতল আবাসন নির্মাণ করা হচ্ছে। এমনটাই অভিযোগ পরিবেশপ্রেমীদের। এর প্রতিবাদে, বিশ্ব পরিবেশ দিবসে ওই জমিতেই চারাগাছ লাগিয়ে বার্তা দিলন তারা।

শহরে করলা অ্যালির পাড়ের ওই জমিটি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। পরিবেশ প্রেমীরা প্রাথমিক পর্যায়ে মামলাও করেছিলেন। তবে, রায় তাদের স্বপক্ষে আসেনি। ওই জলাজমি রক্ষায় জেলা প্রশাসন, সেচ দফতর, পুরসভা-সহ একাধিক সরকারি দফতরের দ্বারস্থও হন তারা। এর পাশাপাশি, অবৈধ নির্মাণ রুখতে গণ কনভেনশন, শহরবাসীর স্বাক্ষর সংগ্রহ-সহ একাধিক কর্মসূচিও হাতে নেন তারা। এদিকে, নির্মাণকারী সংস্থা পাল্টা জানায়, তারা বৈধ ভাবেই সব কাজ করছে। পরিবেশপ্রেমীদের অভিযোগ, অসাধু চক্রের সহায়তায় জমির চরিত্র বদল করে জলাজমিকে বাস্তুজমিতে রূপান্তরিত করা হয়েছে। নদীর পাড়ের ওই জমিতে সেচ দফতরের স্লুইস গেটও বেআইনিভাবে বন্ধ করা হয়েছে। বর্ষার সময়ে করলার অতিরিক্ত জল ওই জলাজমিতে ঢুকতো। বর্তমান পরিস্থিতিতে করলার জল শহরে ঢোকার পথ প্রশস্থ করা হল। জলা বুঁজিয়ে এখানে বহুতল নির্মাণ হলে পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। এর পাশাপাশি, শহরেও জলবদ্ধতার সৃষ্টি হবে বলে দাবি পরিবেশপ্রেমীদের। শুক্রবার জ্যোতি প্রসাদ রায়, বিশ্বজিৎ দত্ত চৌধুরী, অঞ্জন সরকার-সহ অন্য পরিবেশপ্রেমীরা ওই এলাকায় যান। নির্মিয়মান বহুতলের সামনে পরিবেশকে মাতৃজ্ঞানে পুজো করে বেশ কিছু চারাগাছও রোপণ করেন তারা। বিশ্বজিৎ বলেন, ‘আমরা এর শেষ দেখে ছাড়বো। এভাবে পরিবেশ ধ্বংস করে নির্মাণকাজ করা যায় না।’ জ্যোতি প্রসাদ রায় বলেন, ‘বেআইনি ভাবে জলাজমি ভরাট করে হাউজিং কমপ্লেক্স তৈরি করা হচ্ছে। আমরা আরও তথ্য প্রমাণ খুঁজে বের করবো। হাল ছাড়ছি না। আজ এই বিতর্কিত জমিতে চারাগাছ লাগালাম আমরা।’


