বিশেষ সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: এক-দু দিন নয়। কমবেশি ৪৩ দিন ধরে কর্মচ্যুত জলপাইগুড়ি সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ২০ জন নিরাপত্তারক্ষীর। চরম অনিশ্চয়তা পরিবারে। বৃহস্পতিবার সকালে ওই কলেজের মূল ফটকের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ করলেন তারা। এই বিক্ষোভে সামিল হলেন বাম শ্রমিক সংগঠনের নেতা কর্মীরাও। দ্রুত কাজে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন নিরাপত্তা রক্ষীরা। বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস অবশ্য দিয়েছেন অধ্যক্ষ ড. অমিতাভ রায় বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।

অভিযোগ, কোনো আগাম নোটিশ বা লিখিত ছাড়াই জুলাই মাসের ১ তারিখ থেকে মৌখিকভাবে কাজে আসতে বারণ করা হয়েছে এই নিরাপত্তা রক্ষীদের। এরা সকলেই ১০ থেকে ১৫ বছর যাবৎ এই কলেজের নিরাপত্তা রক্ষী হিসেবে কাজ করছেন। বিক্ষোভে আটকে পড়ে কলেজ ক্যাম্পাসে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিস এবং নর্থ বেঙ্গল ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসের নানা কাজ। খবর পেয়ে ছুটে আসে কোতয়ালি থানার পুলিশও। সিটু অনুমোদিত সিকিউরিটি অ্যান্ড কো-অ্যালাইড ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন এই বিক্ষোভের ডাক দেয় বলে সূত্রের খবর। পোস্টার, ব্যানার নিয়ে চলে আন্দোলন।

শ্রমিক নেতা শুভাশিস সরকার জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী এই নিরাপত্তা রক্ষীদের কাজ থেকে বাদ দিতে পারে না কলেজ কর্তৃপক্ষ। কলেজ ও পড়ুয়াদেরও নিরাপত্তার প্রশ্ন রয়েছে। ছাঁটাই হওয়া নিরাপত্তারক্ষীদের পরিবারের বিষয়টিও রয়েছে।

কলেজের অধ্যক্ষ অমিতাভ রায় অবশ্য এ বিষয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত থেকেছেন। কোনও প্রতিক্রিয়া তিনি দেন নি। তবে তিনি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে দাবি। সংগঠনের নেতাদের আরও দাবি, ‘ঠিকাদারি সংস্থার মাধ্যমে এরা নিযুক্ত। তাদের অনুমোদন চলে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে আশ্বাসও দিয়েছেন অধ্যক্ষ। ওদের কাজে পুনর্বহাল করা না হলে পুনরায় বিক্ষোভের হুঁশিয়ারি দিলেন বাম নেতারা।


