বিশেষ সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: দীর্ঘ ১৬ বছরের লড়াইের অবসান। অবশেষে ক্রেতা সুরক্ষা ও উপভোক্তা দফতরের মধ্যস্থতায় প্রয়াত স্বামী দয়াল চন্দ্র শীলের নামকরা এক বীমা কোম্পানির বহু পুরানো পলিসির টাকা ফেরত পেলেন স্ত্রী। সম্প্রতি ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।
স্বামী দয়ালচন্দ্রকে নিয়ে কোচবিহারের আঙ্গুরকাটায় সংসার পেতেছিলেন জনৈকা বীণা শীল। স্বামীর অকস্মাৎ মৃত্যুর পরে এক ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে রীতিমতো আতান্তরে পড়েন তিনি। আশ্রয় নেন জলপাইগুড়িতে থাকা বাবা-মায়ের কাছে। সেখান থেকেই চলতে থাকে ছেলে-মেয়ের পড়াশোনা। বর্তমানে মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। ছেলে শহরেরই এক কলেজে পাঠরত। বাবার পেনশন, সরকারি ভাতা দিয়েই কষ্টে চলত সংসার। তবে স্বামীর পাওনা টাকার জন্য লড়াই চলতে থাকে এক রাষ্ট্রায়ত্ত্ব বীমা কোম্পানির বিরুদ্ধে। চলতি বছরে তিনি অভিযোগ জানান ইন্দিরা কলোনিতে থাকা ক্রেতা সুরক্ষা দফতরে। অভিযোগ পেয়েই তৎপর হয় দপ্তর। ওই বীমা কোম্পানি, অভিযুক্ত ও ক্রেতা সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকারিকেরা ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ডাকেন। দীর্ঘক্ষণ শুনানি হয়। মধ্যস্থতা সফল হওয়ায় বকেয়া ৩ লক্ষ টাকা বীনা শীলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা দেয় ওই কোম্পানি।

অভিযোগকারিনী বলেন, ‘এতদিনের লড়াই সফল হল। সংশ্লিষ্ট দফতরের তৎপরতাকে সাধুবাদ জানাই। তবে, বীমা কোম্পানি সুদের অর্থ দেয়নি। মূল অর্থটা পাওয়ায় কিছুটা সুবিধা হল।’

ক্রেতা সুরক্ষা দফতরের সহ-অধিকর্তা দেবাশিস মণ্ডল বলেন, ‘ক্রেতা তথা উপভোক্তারা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন সেটা দেখাই আমাদের কাজ। এই বিষয়টি ভালো ভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। যদি উনি সুদের টাকার বিষয়ে পদক্ষেপ করতে চান তার জন্য আমাদের ফোরাম রয়েছে।’


