সিসিএন তরাই ডুয়ার্স ব্যুরো: রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা! সৌদি আরবের স্কুলের পাঠ্যবই দেখে বাদ পড়তে চলল প্যালেস্টাইন প্রসঙ্গ। আগে পশ্চিম এশিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকাকে প্যালেস্টাইন বলে চিহ্নিত করত সৌদি প্রশাসন। ইরান যুদ্ধের আবহে ইজরায়েলকে আগ্রাসী বা আক্রমণকারী বলে দাগিয়ে দিতেও নারাজ সৌদি প্রশাসন। তবে সৌদির সংশোধিত স্কুলপাঠ্যে পশ্চিম এশিয়ার মানচিত্রে অবশ্য আলাদা করে ইজ়রায়েলকে চিহ্নিত করা হয়নি। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, সংশ্লিষ্ট মানচিত্রের কোনও অংশের উপরেই সাঁটা নেই প্যালেস্টাইনের কথাও পৃথক ভাবে নেই। ফলে ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক (পশ্চিম তীর) ও গাজা ভূখণ্ডের রাজনৈতিক পরিচয় থেকে গিয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের একাংশে।

সৌদির সঙ্গে ইজরায়েলের তিক্ত সম্পর্ক এক সময়ে সর্বজনবিদিত। ১৯৪৮ সালের প্রথম আরব-ইজ়রায়েল সংঘর্ষে মিশরের সেনা অফিসারদের অধীনে ইহুদিদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সৈনিক পাঠায় সৌদি। ১৯৬৭ সালের বিখ্যাত ছ’দিনের যুদ্ধে জর্ডন সীমান্তে বিপুল ফৌজ ও পদাতিক ব্রিগেড মোতায়েনও করে তারা। ১৯৭৩ সালে ইয়ম কিপ্পুর সংঘাতের সময় অন্য আরব রাষ্ট্রগুলির পাশে দাঁড়াতে তেল আভিভে বন্ধ হয় রিয়াধের খনিজ তেল রফতানি। হঠাৎ করে সংশোধিত স্কুল পাঠ্যে সৌদির ইজরায়েলের প্রতি নরম মনোভাবে জল্পনা ছড়িয়েছে। আগামীদিনে ইজরায়েলকে স্বীকৃতিও দিতে পারে সৌদি বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের একাংশের অভিমত। আরেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সৌদির নতুন পাঠ্যসূচিতে জায়গা পেয়েছেন ইহুদি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা চেইম উইজ়ম্যান। ইজ়রায়েল তৈরির পর নবগঠিত রাষ্ট্রটির প্রথম প্রেসিডেন্ট ছিলেন তিনি।

মূলত দুটি কারণে সৌদির এই অবস্থান বদল বলে মন্তব্য আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের একাংশের। প্রথম, ইরানের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ও ইজরায়েলের যুদ্ধে বেশ কয়েকবার ইরানের হামলার শিকার হয়েছে সৌদি। তেল সরবরাহের ক্ষেত্রেও ক্ষতির শিকার হতে হয়েছে রিয়াধকে। এই পরিস্থিতিতে ইজ়রায়েলের ভিতর দিয়ে পাইপলাইনে ইউরোপে তেল সরবরাহ করতে চাইছে সৌদির যুবরাজ তথা প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ বিন সলমন। দ্বিতীয়ত, চলতি বছরের জুলাইয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ৩০ বছরের ঐতিহাসিক জ্বালানি চুক্তিতে সই করেছে রিয়াধ। এই চুক্তিতে ইজরায়েল বাধা হয়ে দাঁড়ালে মোড় ঘুরতে সময় লাগবে না বলে অভিমত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের। নেপথ্যের একাধিক কারণেই ইজরায়েলের প্রতি প্রারম্ভিক নরম মনোভাব নিচ্ছো সৌদি, ধারণা আন্তর্জাতিক মহলের একাশের। তবে, বিষয়টি নিয়ে খুশি ইজরায়েলের শীর্ষ প্রশাসন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর।(ছবি: সমাজমাধ্যম)


