অভিষেক সেনগুপ্ত, জলপাইগুড়ি: রাখি পূর্ণিমায় স্কুল পড়ুয়াদের তৈরি রাখি শোভা পাবে স্থানীয় ব্যাঙ্ক-কর্মী থেকে হাসপাতালের রোগী, নার্স, চিকিৎসকের হাতে। বাদ যাবে না এলাকার খুদে, প্রবীণেরাও। তারই প্রস্তুতিতে পাশে দাঁড়িয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। এর পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে কৃত্রিম ফুলও। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দেখানো পথেই রাখি তৈরি করছে পড়ুয়ারা। মঙ্গলবার পরিবেশবান্ধব উপকরণ দিয়ে সদর শহর লাগোয়া কোনপাকরিতে বিবেকানন্দ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ‘শৈল্পিক-সৃজনের’ বীজ বুনে দিচ্ছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।


আসন্ন রাখি পূর্ণিমাতে পড়ুয়াদের তৈরি এই রাখীই শোভা পাবে স্কুল পড়ুয়া-সহ এলাকাট ভাই বোনদের হাতে। প্রতিযোগিতামূলক এই কর্মসূচিতে আনন্দের সঙ্গে সামিল হল পড়ুয়ারা। বিচারক হিসাবে রয়েছেন চিত্রশিল্পী অমরনাথ নন্দী। এদিন ওই স্কুলে পরিবেশবান্ধব উপকরণ দিয়ে রাখি তৈরির প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। পাঁচ জন করে ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে একটি গ্রুপ তৈরি করা হয়। মোট সাতটি গ্রুপের মধ্যে চলে রাখি বানানোর প্রতিযোগিতা। এদিন বিদ্যালয়ের হলঘরে সকাল থেকেই চরম ব্যস্ততা। নিজেরা রাখি তৈরি করে অন্যদের পরাবে ভেবে উৎসাহের অন্ত ছিল না অংশগ্রহণকারীদের। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, ফেলে দেওয়া বাদামের খোসা, পিচ বোর্ড, সুতো,পাট, কাগজ, মুসুরির ডাল, চাল দিয়ে অভিনব রাখি বানিয়েছে পড়ুয়ারা। এই স্কুলে বর্তমানে নেতাজি, রামমোহন, নিবেদিতা-সহ ৭টি গ্রুপ রয়েছে। রাখি তৈরির পরিকল্পনা করেছে টেরেজা গ্রুপ। তৈরি হচ্ছে মোট ১৭৫টি রাখী। মূলত সম্প্রীতির রার্তা দিতেই বিগত ৩ বছর ধরে এই কর্মসূচি চলছে। রাখি পূর্ণিমার দিন পড়ুয়ারা নিজেরা রান্না করে খাদ্যমেলার আয়োজন করতে চলেছে। ওইদিন স্কুল চত্বরে থাকবে তাদের হস্তশিল্পের স্টলও।


স্কুলের সহ-শিক্ষিকা সুমনা ঘোষ দস্তিদার বলেন, ‘প্রতিযোগিতামূলক এই কর্মসূচির মাধ্যমে পড়ুয়াদের সৃজনশীলতা বাড়বে। একসঙ্গে কাজ করার প্রবণতাও বাড়বে। প্রায় প্রত্যন্ত এই স্কুলে নয় শতাধিক পড়ুয়া রয়েছে। অধিকাংশই দুঃস্থ পরিবারের। তাই তাদের ফেলে দেওয়া পরিবেশবান্ধব সামগ্রীকেই উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।
এই প্রতিযোগিতামূলক কমসূচিতে বিচারকের দায়িত্বে রয়েছেন চিত্রশিল্পী অমরনাথ নন্দী। তিনি জানান, ‘শিক্ষা ও সৃজনশীলতার সহাবস্থানে পড়ুয়াদের সামগ্রিক বিকাশ হবে। সমাজ সুন্দর হবে। স্থানাধীকারী প্রথম ৩টি গ্রুপকে পুরস্কৃত করা হবে। এতে ওদের উৎসাহ বাড়বে।


