Homeউত্তরবঙ্গতৃণমূলী বঞ্চনার অবসান, ৮০ হাজারেরও বেশি স্কুলে কম্পোজিট গ্র্যান্ট রাজ্য সরকারের

তৃণমূলী বঞ্চনার অবসান, ৮০ হাজারেরও বেশি স্কুলে কম্পোজিট গ্র্যান্ট রাজ্য সরকারের

অভিষেক সেনগুপ্ত, জলপাইগুড়ি: তৃণমূল আমলে যৎসামান্য কম্পোজিট গ্রান্ট হাতে পেয়েছিল জেলা তথা রাজ্যের স্কুল গুলি। স্কুলের দৈনন্দিন খরচ, ছোট রিপেয়ারিং-সহ নানা কাজ করাতে নাভিশ্বাস উঠেছিল স্কুল কর্তৃপক্ষের। বুধবার সরকার ও সরকার পোষিত স্কুল গুলিকে একযোগে ২৯৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করল শুভেন্দু সরকার। এদিন নবান্নে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কমবেশি ৮০ হাজারেরও বেশি স্কুলকে ২৯৬ কোটি ৩৪ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা দিল রাজ্য সরকার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন বিদ্যালয় শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ, মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল প্রমূখ। খবর প্রকাশ হতেই জেলার শিক্ষা মহলে স্বস্তির হাওয়া।

এই জেলায় বারো শতাধিক প্রাথমিক স্কুল রয়েছে। এর একাংশ প্রত্যন্ত ও বনাঞ্চল লাগোয়া এলাকায় হওয়াশ হাতির হামলার শিকার হতে হয় ফি বছর। এর পাশাপাশি, অন্য স্কুল গুলিও ফান্ডের অভাবে দৈনন্দিন কাজগুলিও সঠিক ভাবে করতে পারছিল না বলে অভিযোগ। ওই টাকাতেই স্কুলের মেরামতি, প্রাচীর নির্মাণ-সহ দৈনন্দিন কাজগুলি করা এবারে সম্ভবপর হবে বলে মনে করছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক শিক্ষিকারা। এক প্রধান শিক্ষিকা বলেন, ‘ রাজ্য সরকার শিক্ষাকে যে ভাবে গুরুত্ব দিয়েছে তা প্রশংসাব্যঞ্জক।’ স্কুল মেরামতি, সংস্কার ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু নিয়মাবলি ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। পিএমশ্রী-সহ স্কুল পরিকাঠামো উন্নয়নের সব প্রকল্প রাজ্য গ্রহণ করেছে। তাতে এ বছর তিন-চার হাজার কোটি টাকা পাওয়ার আশা রয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

জীবেশ দাস, বিজেপি প্রভাবিত শিক্ষক নেতা।

বিজেপি প্রভাবিত শিক্ষক নেতা জীবেশ দাস বলেন, “আগের সরকার শিক্ষাকে বঞ্চিত করে রেখেছিল। নামমাত্র কম্পোজিট গ্রান্টে স্কুল চালাতে হিমশিম খেতে হত। বর্তমান রাজ্য সরকার শিক্ষার পরানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে চলেছে। ছাত্র-শিক্ষক সকলের সমস্যাই প্রধান্য পাবে। এই গ্র্যান্টের টাকায় স্কুল পরিচালনার ক্ষেত্রে একটা নতুন দিক উন্মোচিত হবে। স্কুলের পঠনপাঠন ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন, পরিদর্শন, শিক্ষক নিয়োগ-সব কিছুই করবে রাজ্য সরকার। সুন্দর একটা ‘সিস্টেমের’ মধ্যে দিয়ে চলবে শিক্ষা ব্যবস্থা।

শিক্ষার মনোন্নয়ন। ছবি: পিনাকী শীল।

যে সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলে ১ থেকে ৩০ জন পড়ুয়া রয়েছে তারা একলপ্তে ১০ হাজার টাকা এই গ্রান্টে পাবে। ৩১ থেকে ১০০ জন পড়ুয়াবিশিষ্ট স্কুল পাবে ২৫ হাজার টাকা, ১০১ থেকে ২৫০ জন পড়ুয়া কোনও স্কুলে থাকলে ৫০ হাজার টাকা পাবে স্কুল কর্তৃপক্ষ। ২৫১ থেকে ১ হাজার পড়ুয়া বিশিষ্ট স্কুল ৭৫ হাজার টাকা ও এক হাজারের ওপর পড়ুয়া থাকলে ১ লক্ষ টাকা পাবে স্কুল কর্তৃপক্ষ। সমগ্র শিক্ষা মিশনের মাধ্যমে এই টাকা স্কুলে যাবে বলে জানান জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক তথা ডিপিএসসি-র সচিব শ্যামলচন্দ্র রায়। তিনি আরও বলেন, এই গ্র্যান্ট আসায় দীর্ঘদিন ধরে চলা সমস্যা থেকে মুক্তি পাবে স্কুল গুলি। জেলার প্রচুর স্কুল পর্যাপ্ত কম্পোজিট গ্র্যান্টের অভাবে প্রয়োজনীয় কাজ গুলি করতে পারছিল না। এবারে দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।”

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments