অভিষেক সেনগুপ্ত, জলপাইগুড়ি: ত্রিবর্ণ রঞ্জিত জাতীয় পতাকার সঙ্গে বৃত্তের ভেতরে নির্মিত এক মহাবৈশ্বিক জ্যামিতিক নকশা। যা পূর্ণতা ও ভারসাম্যের প্রতীক। জাতীয় পতাকার সঙ্গে এই মন্ডলা শিল্প মিলিয়ে অভিনব ছবি আঁকলো মারোয়াড়ি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী মেঘা রজক। শহরের বাবুপাড়ার বাসিন্দা দুঃস্থ পরিবারের ওই শিশুশিল্পীর ‘অন্যরকমের’ ছবি দৃষ্টি কাড়ল সবার। অন্য ছবির সঙ্গে এই ছবিও প্রদর্শিত হল স্কুলের চিত্র প্রদর্শনীতে। ছবির প্রশংসা করলেন শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের একাংশও।

৮০ তম স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে দেশজুড়ে দেশাত্মবোধে জারিত হওয়ার আহ্বান। সামিল জলপাইগুড়িও। ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক তরফেও সাড়ম্বরে ‘প্রতি ঘরে তিরঙ্গা’ কর্মসূচির সূচনা হয়েছে শহরের বিশ্ব বাংলা ক্রীড়াঙ্গনের গেট থেকে। পথ হাঁটেন খোদ জেলাশাসক অদিতি চৌধুরী-সহ প্রশাসনিক আধিকারিক, বিধায়ক অনন্তদেব অধিকারী-সহ জন প্রতিনিধিরা।

আসন্ন স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে একগুচ্ছ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে স্কুল গুলিও। শুক্রবার সকালে শহরের মারোয়াড়ি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে এক মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ‘বন্দেমাতরম’ ও ‘জনগণ মন অধিনায়ক’ সঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। স্কুল চত্বর থেকে একটি শোভাযাত্রাও বের করা হয়। পরে প্রদর্শনীর আয়োজন করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। রাস্ট্রীয় প্রতীক, দেশের দর্শনীয় স্থানের রেপ্লিকা, হস্তশিল্পের সামগ্রী নিজেরাই তৈরি করে আনে ছাত্রীরা। মাটির হাড়ি, বেলুন-সহ একাধিক উপকরণ দিয়ে স্কুল সাজায় ছাত্রীরাই। স্কুলে চারাগাছ রোপণ করা হয়। হলঘরে করা হয় সেলফি জোনও। পড়ুয়াদের পাশাপাশি জাতীয় পতাকা নিয়ে ছবি তুলতে দেখা গেল শিক্ষিকাদেরও।

চিত্র প্রদর্শনীও আয়োজিত হয়। সেখানেই মেঘা রজকের ছবিটি আলাদাভাবে নজরে আসে সকলের। দূরে সবুজের আভা, রুক্ষপ্রান্তরে তিরঙ্গা হাতে নিয়ে ত্রিবর্ণ শাড়ি পরে ছুটছেন এক এলোকেশি মহিলা। প্রতিকূলতাকে জয় করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

মেঘা বলে, ‘আমরা চাই, আমাদের দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলুক। সমস্ত বিপদ-আপদকে অতিক্রম করে সেরার শিরোপা পাক। দেশের যে কোনও প্রয়োজনে কাজ করতে আমরা মেয়েরাও সমান ভাবে প্রস্তুত।”

প্রধান শিক্ষিকা রীতা রাম বলেন, ‘সরকারি নির্দেশিকা মেনেই স্কুলে একধিক কার্যক্রম চলছে। পড়ুয়ারা স্বতস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছে। পঞ্চম শ্রেণীর মেঘা রজক সত্যি ভাল সৃজনশীলতার পরিচয় দিয়েছে। দেশাত্মবোধ ও ওদের প্রতিভার বিকাশে আমরা আরও কিছু কর্মসূচি নিয়েছি।’

বর্ষীয়ান চিত্রশিল্পী নীহার মজুমদার বলেন, ‘এটি দু’হাজার বছরেরও প্রাচীন জ্যামিতিক নকশা। আদিম প্রথা। এর সঙ্গে আধ্যাত্মিকতা, সামাজিক সঙ্ঘবদ্ধতা ও পঞ্চতন্ত্র-সহ একাধিক যোগ রয়েছে। হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন সংস্কৃতিতে দেখা যায়।’


