অভিষেক সেনগুপ্ত, জলপাইগুড়ি: সমস্যা অন্তহীন। আগের আমলের হাজারও আশ্বাসেও অধরা সমাধান। রাতে বেশিরভাগ বাতিই জ্বলে না।প্রায় ঘুটঘুটে অন্ধকারে এলাকায় টহল দিচ্ছেন রাতের ২ নিরাপত্তা কর্মী। প্রায় সব সিসিটিভিই অচল। পার্কের পরিস্কার পরিচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন পর্যটক ও প্রাত ভ্রমণকারীদের। অভিযোগ উঠেছে, দৃশ্য দূষণ ও অসামাজিক কাজেরও। খোদ নিরাপত্তা রক্ষীরাও চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। রাজবাড়ি পার্কের অব্যবস্থা নিয়ে উঠেছে একাধিক অভিযোগ। নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সদর্থক পদক্ষেপ করার আশ্বাস বিধায়ক অনন্তদেব অধিকারীর।


ভোর ৫ টা থেকে সকাল ৯ টা পর্যন্ত ওই পার্কে দিঘির চারিদিকে ঘুরে শারীরিক কসরতে আসেন স্থানীয় ও বহিরাগত প্রাতভ্রমণকারীরা। সকালে মন্দির চত্বরে চলে এক জুম্বা ক্লাসও। পরে আসেন স্থানীয় ও বহিরাগত পর্যটকেরা। সকালে মহিলাদের জন্য শৌচালয় খোলা না থাকায় তাদের সমস্যায় পড়তে হয় বলে অভিযোগ। জলের কলের একাংশের মুখ চুরি হয়ে গিয়েছে বলেও অভিযোগ। দীর্ঘসময় ধরে অস্থায়ীভাবে মালি কাজ করায় সাফ-সাফাই ঠিকমতো হয় না। বর্ষায় সাপ-পোকামাকড়ের আতঙ্কে রয়েছেন অনেকেই। মূল ফটকে ঢোকার মুখেই একটি লোহার টাওয়ার হেলে পড়ে থাকায় যে কোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা পর্যটক ও প্রাতভ্রমনকারীদের।

রাজবাড়ি পার্কে টিকিট কেটে ঢোকার পরে, আবারও শিশু উদ্যানে ঢোকার জন্য আলাদা ভাবে টিকিট কাটতে হয় বলেও অভিযোগ পর্যটকদের। কয়েকমাস আগে মন্দির চত্বরে ঝড়ে পড়া গাছ এখনও সরানো হয়নি বলে অভিযোগ।

প্রাতভ্রমণকারী অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক পার্থ মজুমদার, অবসরপ্রাপ্ত কার্যনির্বাহী বাস্তুকার আশিস সরকার, সাঁতার কমিটির সদস্য কার্তিক ঘোষেরা জানান, পার্কটিকে যেভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা উচিত তা করা হয় না। বাথরুমও বন্ধ থাকে। একটি গাছ, একটি প্রাণ। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এগুলির সংরক্ষণ প্রয়োজন। এসজেডিএ কর্তৃপক্ষের তরফেও নজরদারি দরকার। রেলিংয়ের পাশে ও পুকুরের ধারের ঝোঁপ-জঙ্গল নিয়মিত পরিস্কার করা উচিত। দুর্গন্ধের কারণেও অনেকে সমস্যায় পড়েন।’

তাদের দাবি, ঘাটটিকে সংস্কার করে অন্তত দুটো জলের কল বসানো। মন্দিরের সামনে বসার জায়গা ও মার্বেলগুলিও সংস্কার করা দরকার। সোলার প্যানেলের পরীক্ষা করার কথা ও নতুন প্রজন্মের নেশার প্রকোপ কমাতে মিনি জিম স্থাপনের প্রস্তাব দেন আইনজীবি দেবাশিস কর্মকার।



দৃশ্যদূষণ ও নেশার আসর বসারও অভিযোগ রয়েছে। এই পার্কে মোট ৩ নিরাপত্তারক্ষী সহ স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মী মিলিয়ে ৮ জন রয়েছেন। নিরাপত্তা রক্ষীদের একাংশের দাবি, রাতের অন্ধকারে অতবড় জায়গা দেখে রাখা বেশ চাপের। নিরাপত্তারক্ষীরা এজেন্সি মারফত নিযুক্ত হওয়ায় চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভোগেন। বেতনও সামান্য৷ তবু তারা পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছেন। তবে, এবিষয়ে ওই এজেন্সির সুপারভাইজার জয়ন্ত কুমার ঘোষ জানান, বর্তমানে ৬ জন নিরাপত্তাকর্মী ওখানে রয়েছেন। এর আগেও নিরাপত্তাকর্মীদের বেতন বৃদ্ধি-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে এসজেডিএ-কে লিখিতভাবে জানিয়েছেন মালিকপক্ষ।

জলপাইগুড়ির বিধায়ক অনন্তদেব অধিকারী বলেন, ” আপনাদের থেকেই এই প্রথম সমস্যার কথা শুনলাম। বিষয়টি আমি দেখব। বোর্ড মিটিংয়েও প্রসঙ্গটা তুলবো। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সদর্থক ব্যবস্থা নেব। জলপাইগুড়ির সামগ্রিক উন্নয়নই আমাদের লক্ষ্য। “


