জলপাইগুড়ি: বৃহস্পতিবার দুপুরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল জলপাইগুড়ি শহর লাগোয়া খড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস। দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগে ওই অফিস থেকে রীতিমতো ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হল পঞ্চায়েত প্রধান কানন অধিকারীকে। পরে তাকে টোটো করে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়। এদিনে ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ প্রধান মনোজ ঘোষকে মারধোর ও হেনস্থা করার অভিযোগও উঠে এসেছে। তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। খবর পেয়ে কোতয়ালি থানা থেকে পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়।

স্থানীয় সূত্রের খবর, এদিন জেনারেল বডির মিটিং ছিল। সচিবের বদলি বা কোনও কারণে বিলম্ব হচ্ছিল। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পানীয় জল, জব কার্ড, আবাস যোজনা-সহ একাধিক বিষয়ে জোর বচসা ও তর্ক বিতর্ক শুরু হয়। অশ্রাব্য গালাগালি দিয়ে চেম্বার থেকে বের করে দেওয়া হয় কানন অধিকারীকে বলে অভিযোগ।

কানন বলেন, ‘এ ধরণের ঘটনা অনভিপ্রেত। আমরা মানুষকে পরিষেবা দিতে এসেছি। এই ব্যবহার কাম্য ছিল না।’ এদিনের এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির অভিযোগ উঠেছে রাজ্যের শাসকদলের কিছু নেতার বিরুদ্ধে।

স্থানীয় বিজেপি নেতা দীপঙ্কর দত্ত বলেন, ‘১৫ বছরের অপশাসনে মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। সাধারণ মানুষ ক্ষিপ্ত, বঞ্চিত। গণবিক্ষোভ হয়েছে। এই ঘুঘুর বসা ভাঙতেই হবে।’ তৃণমূলের একাংশের কথায়, বেশ কিছু দিন ধরেই পদত্যাগ করার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল গেরুয়া শিবির থেকে। তৃণমূল জনপ্রতিনিধিরা তা না করায় এই ঘটনা ঘটেছে। একই সুরে কথা বললেন কংগ্রেস পঞ্চায়েত সদস্য গণেশ ঘোষ। তার কথায়, অনাস্থা এনেই নতুন বোর্ড করা যেত। এসবের দরকার ছিল না।’ এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন উপপ্রধান মনোজ ঘোষ বলেন, ‘বিনা প্ররোচনায় বিজেপি আশ্রিত লোকেরা আমায় মারল। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছি। বেশ কিছুদিন ধরেই কয়েকজন বিজেপি নেতা আমাদের পদত্যাগ করার জন্য চাপ দিচ্ছিল। আমরা না শোনায় এই পরিণতি হল। অন্নপূর্ণা প্রকল্পের কাগজতো ওরাই নাড়াঘাটা করছে।

জেলা বিজেপির মুখপাত্র শ্যাম প্রসাদ বলেন, ‘আমরা কাউকে পদত্যাগ করতে বিলিনি। মানুষ চাইছে ওঁরা সরে যাক। খড়িয়া জিপি-র দুর্নীতি নিয়ে আমিও একসময়ে আন্দোলন করেছি। আজকের ঘটনা সম্পূর্ণ গণবিক্ষোভ। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, অত্যাচারের জবাব মানুষ দিচ্ছেন। তবে, মারধোরের কোনও ঘটনা হলে তা সমর্থনযোগ্য নয়।’


