নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: দেশের স্বাধীনতা তখন দূর অস্ত। ধূপগুড়ির প্রত্যন্ত এলাকায় কমবেশি ৯৭ বছর আগে স্থাপিত হয় বর্তমানের মোহরেরবান বোর্ড ফ্রি প্রাথমিক স্কিল। তখনকার দিনের প্রত্যনৃত ওই এলাকায় শিক্ষার আলো জ্বেলেছিলেন তদানীনন্তন শিক্ষক, শিক্ষাগুরুরা। শতবর্ষ ছুঁইছুঁই এই স্কুলেও ঘটা করে পালিত হল দেশের ৮০ তম স্বাধীনতা দিবস।

বিগত ৯ দশকের বেশি সময়ে কলেবর ও কাজের পরিধি বেড়েছে স্কুলের। তবে, প্রথম থেকেই প্রথাগত শিক্ষার বাইরে গিয়ে সংস্কৃতি, সমাজসেবাকে আলাদা গুরুত্ব দিয়ে এসেছিলেন তদানীন্তন স্কুল কর্তৃপক্ষ। সেই রীতি আজও বিদ্যমান। পড়ুয়াদের শারীরিক সক্ষমতা বাড়াতে কসরতও করানো হয় প্রায় ফি দিন। যোগের মাধ্যমে পড়ুয়াদের মানসিক স্থিতিশীলতা রক্ষার দিকেও নজর রেখেছেন ধূপগুড়ি পশ্চিম মণ্ডলের এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক নন্দিন সরকার সহ অন্য শিক্ষক শিক্ষিকারা।

শনিবার জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় স্তোত্র, জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে, ‘প্রতি ঘরে তিরঙ্গা’ কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে ৪০০ মিটার দৌড়য় পড়ুয়ারা। পরে ১৮০০ মিটারের সাইকেল শোভাযাত্রাও হয় স্কুল কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে। প্রধান শিক্ষক নন্দিত সরকার বলেন, ‘শুধু পাঠদান নয়, দেশাত্মবোধ, সমাজ, সংস্কৃতি, পরিবেশ-সহ সামগ্রিক ক্ষেত্রে সম্যক ভাবে এগিয়ে আসতে হবে পড়ুয়াদের। মানসিক ও শারীরিক সবলতাও প্রয়োজন।’ তার আরও সংযোজন, কোন স্কুলে প্রকল্প হাতে নেওয়ার সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সঙ্গেও আলোচনা করে নেওয়া প্রয়োজন। প্রতিটি স্কুলে একই সমস্যা বা চাহিদা থাকে না। এটা হলে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।


এদিন সাইকেল শোভাযাত্রা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সামিল হয় পড়ুয়ারা। গান, কবিতা, নাচ, তাৎক্ষণিক বক্তৃতার মাধ্যমে সকলের প্রশংসা কুড়োয় তারা। জাতীয় তিরঙ্গা নিয়ে যোগ ব্যায়াম সহ নানা কসরতেও অংশ নেয় তারা। ‘বিবিধের মাঝে মিলন মহান’ নৃত্যানুষ্ঠান ও ভারতমাতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে কর্মসূচি শেষ হয়।


