অভিষেক সেনগুপ্ত, জলপাইগুড়ি: মা গিয়েছিলেন কাজে। হঠাৎ বাড়ি থেকে বেপাত্তা ছেলে। সামান্য মানসিক ভারসাম্যহীন সেই ছেলেকে কেরল পুলিশ ও জলপাইগুড়ি পুলিশের সহায়তায় প্রায় ৩ দশক বাদে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিল জলপাইগুড়ি ওয়েলফেয়ার। মা-ছেলের মিলনে আবেগাপ্লুত সংগঠনের সদস্যরা। ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে, প্রয়োজনীয় নথিপত্রের কাজ সেরে মা ফিরে গেলেন শহর লাগোয়া দেবনগরের ৭৩ মোড়ে। খুশির হাওয়া পরিবারে।

বাবার মৃত্যু, দারিদ্র, বিয়ে ভেঙে যাওয়া সহ একাধিক বিষয়ে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন সেই সময়ের যুবক হরি রায়। হঠাৎ ই বাড়ি ছেড়ে চলে যান তিনি। এ রাজ্য- ও রাজ্য ঘুরে সটান কেরলে। ভবঘুরের জীবনযাপন করতেন তিনি। টুকটাক কাজও করতেন। এদিকে, নিখোঁজ ছেলের আশা একপ্রকার ছেড়েই দিয়েছিলেন পরিবারের বাকিরা। তবে, দিন ফিরল ২৮ বছর পরে। শেষ বয়সে আত্মজকে পেয়ে ওয়েলফেয়ারে বসেই চোখের জল বাঁধ মানলো না তাঁর। ওয়েলফেয়ার সূত্রের খবর, বিভিন্ন রাজ্যে ঘোরার পরে করলের কুন্নুরে ভবঘুরে হয়ে ঘুরছিলেন হরি। পরে, তার স্থান হয় সরকারি হোমে। তথ্য সংগ্রহ করে কেরলের পুলিশ যোগাযোগ করে এ রাজ্যের পুলিশের সঙ্গে। এদিকে পুলিশ প্রশাসন এ বিষয়ে ওয়েলফেয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তদ্বিরও শুরু করে। ওই পরিবারের এক আত্মীয়া ও ওয়েলফেয়ারের সদস্য শুভ বিশ্বাস তাঁকে ফিরিয়ে আনতে বিশেষ ব্যবস্থা নেন। শুভ বলেন, ‘খুব ভালো লাগছে। ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর আমরা খোঁজ পাই। সত্যিই অভাবনীয় অনুভূতি।’

এ দিন ওয়েলফেয়ারে হাজির ছিলেন সংগঠনের সম্পাদক সঞ্জয় চক্রবর্তী, মনোজ সেনগুপ্ত-সহ অন্য পদাধিকারী ও সদস্যরা।

সঞ্জয় বলেন, “মা ছবি দেখেই ছেলেকে চিনতে পেছেছেন। এত বছর পরে মা ছেলেকে কাছে পেলেন। আমরা চেষ্টা করছি, যাতে ওই ব্যক্তির সরকারি প্রমাণপত্র জোগাড় করে সরকারি প্রকল্পের আওতায় আনা যায়।”


