অভিষেক সেনগুপ্ত, জলপাইগুড়ি: ৮০ তম স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে দেশজুড়ে দেশাত্মবোধে জারিত হওয়ার আহ্বান। সামিল জলপাইগুড়িও। সোমবার সকালে ‘প্রতি ঘরে তিরঙ্গা’ কর্মসূচির সূচনা হয় শহরের বিশ্ব বাংলা ক্রীড়াঙ্গনের গেট থেকে। জেলাশাসক, সরকারি আধিকারিক, বিধায়কদের সঙ্গে জাতীয় পতাকা নিয়ে পথ হাঁটলেন আমজনতা, পড়ুয়া, সাইয়ের ক্রীড়া শিক্ষানবিসরাও।

‘আজাদি কা অমৃত মহোৎসব’ উপলক্ষে প্রতি ঘরে তিরঙ্গা বা ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচির সূচনা করে কেন্দ্র। জাতীয় পতাকার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্কের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ভালোবাসা, ভক্তিকে মিশিয়ে দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। জাতীয়তাবোধ, একত্রতার প্রতি এটি একটি অটুট প্রয়াস। এ বছর ‘বন্দেমাতরম’ চেতনার প্রতি উৎসর্গ করা হয়েছে এই কর্মসূচিকে।

এ দিন বিশ্ববাংলা ক্রীড়াঙ্গন থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। ঢাক, ফুল সমন্বিত ঐতিহ্যবাহী ছাতা নিয়েও অনেকে সামিল হন শোভাযাত্রায়। ছিলেন জেলাশাসক অদিতি চৌধুরী, সদর মহকুমাশাসক মঈন আহমেদ, বিধায়ক অনন্তদেব অধিকারী, জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক স্বরূপ বিশ্বাস-সহ প্রশাসনিক পদস্থ আধিকারিকেরা। হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে পথ হাঁটেন প্রচুর সাধারণ মানুষ। ছিল স্কুল পড়ুয়া ও খুদে ক্রীড়াবিদেরাও। রায়কতপাড়া, হাসপাতাল পাড়া-সহ একাধিক পথ পরিক্রমা করে জেলাশাসকের দপ্তরে শোভাযাত্রাটি শেষ হয়।

সেখানে এক এক সংক্ষিপ্ত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ‘বন্দেমাতরম’ স্তোত্রে গলা মেলান জেলাশাসকসহ উপস্থিত সকলেই।

বিধায়ক অনন্তদেব অধিকারী বলেন, “দেশে এক অশুভ শক্তি চক্রান্ত শুরু করেছে। আমাদের জাতীয়তাবোধে উদ্ধুদ্ধ হয়ে যে কোনও প্রতিকূলতাকে জয় করতে হবে। প্রতিটি বাড়ির পাশাপাশি স্কুল, কলেজেও জাতীয় পতাকা লাগানো হবে।”

জেলাশাসক বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার খুব ভালো উদ্যোগ নিয়েছেন। আমরা যখন কোনও বাড়িতে জাতীয় পতাকা লাগাই তখন হিন্দু, শিখ, মুসলিম সবাই এক হয়ে যাই। আমরা তখন শুধু ভারতীয়। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অবদান ও মূল্যবোধকে সম্মান জানিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।”


