অভিষেক সেনগুপ্ত, জলপাইগুড়ি: উত্তরের শৈবতীর্থে এসে একটি ঘোষণা। মুখ্যমন্ত্রীর এই এক ঘোষণাতেই আনন্দমুখর জয়ন্তীপাড়ার মানুষজন। আর্থিক কারণে, সংস্কারের অভাবে ভঙ্গুর হয়ে যেতে বসা মঠ ও মন্দিরের তালিকা তৈরি করতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই তালিকা ধরে সংস্কার ও পুনর্গঠন হবে একাধিক মঠ ও মন্দিরের। এই তালিকা তৈরির দায়িত্ব স্থানীয়স্তরে দেওয়া হয়েছে বিধায়কদের ওপর। কথিত রয়েছে, তখন সত্য যুগ। বৈশাখের শুক্লপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে তখন দিন না রাত, গোধূলি। ঘরেও নয়, বাইরেও নয়, চৌকাঠ। মাটিতেও নয়, আকাশেও নয়, ঊরুতে। এই ঊরুতেই বিষ্ণুভক্ত শিশু পহ্লাদের প্রাণশংশয়কারী পিতা হিরণ্যকশিপুকে নখরে হত্যা করেন বিষ্ণুর চতুর্থ অবতার নৃসিংহদেব।
সম্প্রতি হাইস্কুলের পুকুর সংস্কার করতে গিয়ে জেসিবি-র ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় উত্তরবঙ্গ তথা জলপাইগুড়ির একমাত্র নৃসিংহদেবের মূর্তি ও মন্দিরের। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা মতো তালিকায় স্থান পাবে শ্রীবিষ্ণুর চতুর্থ অবতারের মন্দির ও মূর্তিও। নতুন করে গড়ে উঠবে মন্দির। আশায় বুক বাঁধছেন সকলে।

জলপাইগুড়ির ১২ নম্বর ওয়ার্ডে হাইস্কুল লাগোয়া এই পুকুরটি দীর্ঘদিন ধরপই বেহাল দশায় ছিল বলে অভিযোগ। ভেক্টর বাহিত রোগের আঁতুরঘর হওয়ায় আতঙ্কে থাকতেন স্থানীয়রা। পরে পুরসভা ওই পুকুর সংস্কারে হাত দেয়। পুকুর সংস্কার করতে গিয়েই বিপত্তি। জেসিবি-র অনিয়ন্ত্রিত চলাচলে পুকুর পাড়ে থাকা ওই পুরান মন্দির ও মূর্তিরও ক্ষতি হয়। মূল থানের সে রকম কোনও ক্ষতি না হলেও মন্দিরের প্রাচীর ও মূর্তি নষ্ট হয়ে যায়। স্থানীয়দের চাপে ঠিকাদার ক্ষতিপূরণ করতে রাজি হন বলে দাবি। তবে, কাজ কবে হবে তা নিয়ে সন্দিহান ছিলেন সবাই। এদিকে, এবারে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় সে সব নিয়ে আর ভাবছেন না কেউই।

ইতিহাসবিদ আনন্দগোপাল ঘোষ বলেন, ‘স্বাধীনতার বেশ কয়েক বছর আগেই ওখানে নিম্নবর্ণীয়রা মন্দির গড়ে পুজো করতেন। স্বাধীনতার আগে-পরে উদ্বাস্তুরা আসায় ধীরে জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। উত্তর প্রদেশেও নৃসিংহদেবের মন্দির রয়েছে। তবে, জলপাইগুড়িতে এটিই একমাত্র। এটির রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন।’
১৯৩৯-৪০ সালে শহরের জয়ন্তীপাড়া এলাকায় সাধারণভাবেই নৃসিংহদেবের মন্দির স্থাপনা হয় বলে দাবি। নিয়মিত পুজো-আচ্চাও চলতে থাকে স্থানীয়া ‘গোপাল বুড়ির’ জায়গাতেই গড়ে ওঠা এই মন্দিরে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। রুক্মিনী সরকার-সহ স্থানীয়রা জানান, পুকুরের কাজের জন্যই মন্দিরটির এই হাল হল। এখন টিন দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। রাখালদেবী থেকে পুরোহিত যতীন দাস এসে নিত্য পুজো করেন। মুখ্যমন্ত্রী ভগ্ন মন্দির সংস্কার করার কথা বলায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি।


পূজারি যতীন দাস বলেন, ‘আগে পুর প্রতিনিধি এসে খোঁজ খবর নিতেন। এখন তেমন আসেন না। তনে, কমিটির বাকিরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। রাজ্য সরকার এই মন্দিরের উন্নয়নে কাজ করলে অত্যন্ত ভালো হয়।’

এদিন জল্পেশ মন্দিরে পুজো দিয়ে রীতিমতো আবেগাপ্লুত ভাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ এই ভূমি শ্রী রামকৃষ্ণ, মা সারদা, হরিচাঁদ ঠাকুর, পঞ্চানন বর্মাদের ভূমি। অর্থের অপ্রতুলতার কারণে অনেক পুরানো মঠ, মন্দির ভগ্নপ্রায় হয়ে রয়েছে। বিধায়কেরা সে সবের তালিকা তৈরি করবেন। আমরা সব সাজিয়ে দেব।”


