অভিষেক সেনগুপ্ত, জলপাইগুড়ি: তখন এক নতুন সকাল। নয়া প্রভাত স্বাধীনতার। দেশের পরাধীনতার শৃঙ্খলমুক্তির ৮০তম বছরে জাতীয় পতাকা উত্তোলিত হল জলপাইগুড়ির কোরক হোমে। এদেশের আবাসিকদের পাশাপাশি, তিরঙ্গা পতাকাকে শ্রদ্ধা জানাল ভিনদেশি আবাসিকেরাও। স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ আত্মস্থ করার চেষ্টা করল ওরাও। শনিবার স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে এক সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করে হোম কর্তৃপক্ষ। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এদিন মেনুতেও ছিল বৈচিত্র্য। দিনটিকে অন্যভাবে উপভোগ করল দেশি-বিদেশি আবাসিকেরা।

বর্তমানে জলপাইগুড়ি সরকারি কোরক হোমে ১০৮ জন আবাসিক রয়েছে। এদের মধ্যে ৯৫ জন ভারতীয় ছাড়াও রয়েছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মায়ানমার-সহ অন্য দেশের ১৩ জন আবাসিক। এদের সকলকে নিয়েই স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ঝাঁপিয়ে পড়ে হোম কর্তৃপক্ষ। এদেশের আবাসিকদের সঙ্গে মিলিত ভাবে ভিনদেশি আবাসিকেরাও স্বতস্ফূর্তভাবে অনুষ্ঠানে সামিল হয় বলে দাবি হোম কর্তৃপক্ষের। আবাসিকেরাই ত্রিবর্ণ রঞ্জিত পতাকায় সাজিয়ে তোলে হোম চত্বর।

গত ৯ অগাস্ট থেকে এদিন পর্যন্ত একটানা নানা অনুষ্ঠান চলে হোমে। এদিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে হাজির ছিলেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (জেজেবি)। বিগত কয়েকদিন ধরেই জাতীয় পতাকা অঙ্কন, মনীষী ও বিপ্লবীদের কর্মধারা, কুইজ প্রতিযোগিতা, স্ব-রচিত গল্প কবিতা পাঠ সহ নানা প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান হয়। প্রতিটি বিভাগে স্থানাধিকারীদের জন্য পুরস্কার থাকবে বলে জানান হোম সুপার সৈকত প্রধান।
তিনি বলেন, “এদিন জাতীয় পতাকা উত্তোলন-সহ দেশাত্মবোধক নানা অনুষ্ঠানে সব আবাসিকই সামিল হয়। দিনটির তাৎপর্যও ব্যাখ্যা করা হয়। সব আবাসিকই স্বাধীনতার বিষয়টি আত্মস্থ করে যাতে জাতীয়তাবোধে উদ্ধুদ্ধ হতে পারে আমরা সেই চেষ্টাই করছি। একাত্মতাই প্রগতির পথ প্রশস্থ করে।”
গত শুক্রবার দেশীয় বিনেদনমূলক নানা খেলায় অংশ নিয়ে আবাসিকেরা খুব খুশি বলে জানান কর্তৃপক্ষ। এদিন স্বাধীনতা দিবসে বিশেষ মেনু দুপুরে। থাকছে ডাল, মাংস, মিষ্টি সহ হরেক রকম পদ। এ দিন দিনভর দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করা হল হোম চত্বরে। বিকেলে ক্রীড়ানুষ্ঠানেরও আয়োজন রয়েছে বলে জানায় হোম কর্তৃপক্ষ।


