অভিষেক সেনগুপ্ত, জলপাইগুড়ি: লক্ষ্য, জেলায় বিদ্যাঞ্জলি প্রকল্পের সার্বিক সাফল্য। জেলা ও সার্কেল স্তরের আধিকারিকেরা ইহিমধ্যেই জোরকদমনে কাজ শুরু করেছেন। গাড়ির অভাব থাকায়, খোদ জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক সরকারি বাসে, টোটোতেও চলে যাচ্ছেন নির্ধারিত স্কুলে। পর্যালচনায় বসছেন, শিক্ষক শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের সঙ্গেও। এই প্রকল্পের আলোচনাও করছেন সবাই। এর পাশাপাশি, স্কুলের শিক্ষক, পরিকাঠামো সমস্যা নিয়েও নজর বুলিয়ে নিচ্ছেন তারা।
শিক্ষায় অভিনবত্ব এনেছে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক। শুরু হয়েছে বিদ্যাঞ্জলি প্রকল্প। ইউডাইস কোড উল্লেখ করে এই পোর্টালে নিজেদের সামগ্রিক প্রয়োজনের কথা জানাবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেই মতো স্থানীয় ও বহিরাগত শিক্ষানুরাগীরা তাদের পড়ানো, ব্যায়াম, অন্য ব্যবহারিক জ্ঞান ছাড়াও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপকরণ দিয়ে সহায়তা করবেন সংশ্লিষ্ট স্কুলকে। বিনামূল্যে ভালোবাসার এই পরিষেবায় মিলবে সরকারি শংসাপত্রও।
রাজ্যে পালা বদলের পরেই এই প্রকল্পে জোর দিয়েছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের সমগ্র শিক্ষা মিশন থেকেও নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ছুটছেন শিক্ষা আধিকারিকেরাও। গাড়ির অভাবে গণ পরিবহণকেই ব্যবহার করছেন জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক শ্যামলচন্দ্র রায়।

তিনি বলেন, ‘এই জেলার ৬৫-৭০ শতাংশ এলাকা প্রত্যন্ত ও জঙ্গলাকীর্ণ। ১২শো-র ওপরে প্রাথমিক স্কুল রয়েছে। শিক্ষক সমস্যার পাশাপাশি পরিকাঠামোরও সমস্যা আছে৷ আমরা এসআইদের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়াচ্ছি। মানুষ বুঝছেন শিক্ষার গুরুত্ব। নিজেরাও যাচ্ছি। তবে, গাড়ির অপ্রতুলতার কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তাঁর কথায়, জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় হাতির হামলায় স্কুলঘরের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াও একটা বড় সমস্যা। আমরা ওপর মহলে সবটাই জানাচ্ছি।

সদর পূর্ব মণ্ডলের এসআই মিঠুন দাস বলেন, ‘স্কুলে গিয়ে শিক্ষক শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের এই বিষয়ে বোঝানো হচ্ছে। স্কুল গুলি রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে নিজেদের সমস্যার কথা জানাবে। আলোচনায় আমরা সমস্যা গুলি নিয়েও আলোচনা করছি। অভিভাবক ও স্থানীয়দের বক্তব্যও শোনা হচ্ছে।’ আরও বেশি করে স্কুল যাতে এই ব্যবস্থায় অংশ নেয় সেদিকেই এখন তৎপরতা এখন শিক্ষা প্রশাসনের।


