বিশেষ সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: সাতসকালে স্কুলে স্বাস্থ্য শিবির চলাকালীন অশান্তির আবহ। বিতর্ক-বচসায় প্রধান শিক্ষিকা ও ও সহ-শিক্ষিকার সঙ্গে জড়ালেন জনৈকা পার্শ্ব শিক্ষিকা। ৩ বছর ধরে তিনি স্কুলে আসেন না বলেও অভিযোগ। মঙ্গলবার সকালে ঘটনাটি ঘটে শহরের মারোয়ারি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে। বিষয়টি নিয়ে ডিপিও-র দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে বলে জানান জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক শ্যামলচন্দ্র রায়।

দীর্ঘদিন ধরেই এ বিষয়ে অচলাবস্থা চলছিল এই স্কুলে। পার্শ্বশিক্ষিকা রূপা শর্মার সঙ্গে এর আগেও স্কুলে একাধিক সমস্যার সৃষ্টি হয় প্রধান শিক্ষিকা রীতা রাম-সহ অন্য শিক্ষিকাদের। জল গড়ায় এসএসএম ও শিক্ষা প্রশাসনেও। তবে, এখনও সুরাহা মেলেনি। বর্তমানে এই স্কুলে ৭২ জন পড়ুয়া রয়েছে। এদিন পড়ুয়াদের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষার আয়োজন করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। হাজির ছিলেন সদর হাসপাতালের চিকিৎসক তুহিন পালও। প্রতিটি পড়ুয়ারা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন তিনি। তবে, এর মাঝেই ঘটে ছন্দপতন। হঠাৎই পার্শ্বশিক্ষিকা রূপা শর্মা এসে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ। পাল্টা দুর্নীতি-সহ একাধিক অভিযোগ এনেছেন অভিযুক্তও।


স্কুলের এক সহ-শিক্ষিকা বিভা ভট্টাচার্য বলেন, ‘ক্লাস চলাকালীন উনি (অভিযুক্ত) এসে সবার সামনে অশ্লীল ব্যবহার করতে থাকেন। এদিকে স্কুলে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির চলছে। আমরা এই সমস্যার সমাধান চাই।

প্রধান শিক্ষিকা রীতা রাম বলেন, ‘ওই পার্শ্ব শিক্ষক ৩ বছর স্কুলে আসছেন না। স্কুলে ইচ্ছেমতো এসেই অশান্তি শুরু করেন। আজকের অনুষ্ঠানটিও নষ্ট করার চক্রান্ত করেছেন। ওনাকে সই করতে দেওয়া হচ্ছে না এই তথ্য ঠিক নয়। রীতি মেনে পুনরায় যোগ দিলে আমাদের তো কোনও আপত্তি নেই। আজও উনি আমার সঙ্গে বচসায় জড়ান।

অভিযুক্ত রূপা শর্মা বলেন, ‘আমি ৩ বছর না এলে ‘শো-কজ’ করুক। আমাকে সই করতে দেওয়া হয় না। আমি বদলিরও আবেদন করেছি।’ এই স্কুলে নানা দুর্নীতি চলছে বলেও অভিযোগ তার।

জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক তথা ডিপিএসসি-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শ্যামলচন্দ্র রায় বলেন, “এভাবে তো কোনও স্কুল চলতে পারে না। অবাঞ্ছিত ঘটনা। এসআই সাহেব ওই পার্শ্ব শিক্ষিকার বদলির আবেদন ডিপিও ম্যাডামকে পাঠিয়েছেন। উনি বিষয়টি দেখছেন।”


