Homeউত্তরবঙ্গঅপসারণের পরে পদত্যাগপত্র ডিপিএসসি চেয়ারম্যানের।

অপসারণের পরে পদত্যাগপত্র ডিপিএসসি চেয়ারম্যানের।

অভিষেক সেনগুপ্ত জলপাইগুড়ি: সোমবার অপসারণের নির্দেশ। তারপরেও ‘ব্যাক ডেটে’ বিলে স্বাক্ষরে বিতর্ক। মঙ্গলবার বিকেলে আবার স্কুল শিক্ষা দফতরের বিশেষ সচিবের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠালেন জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান লৈক্ষ্যমোহন রায়। একাধিক জায়গায় ওই চিঠির কপিও পাঠিয়েছেন তিনি। সোমবার অপসারণের পরেও পুরানো তারিখ দিয়ে বকেয়া বিলে স্বাক্ষর করার অভিযোগ উঠেছিল ডিপিএসসি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। ঘটনার জোরে সাময়িক উত্তেজনা ছড়ায় সংসদে। আপাতত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তর ও ডিপিএসসি-র কাজ সামলাচ্ছেন ডিআই শ্যামলচন্দ্র রায়। কাস্টডিতে থাকা ফাইলের তালিকা তৈরির নির্দেশ কর্মীদের দিয়েছেন তিনি।

অপসারণের পরে পদত্যাগপত্র।

এ দিন সময় বিকেল প্রায় সাড়ে চারটে। স্বাভাবিক কাজকর্ম চলছে জলপাইগুড়ি জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদে। তবে, অস্বস্তিকর পরিস্থিতির আঁচ পাওয়া গেল অন্দরে। সদ্য অপসারিত চেয়ারম্যানের ঘর ‘লক’ করা অবস্থায় রয়েছে। তবে দরজায় রয়ে গিয়েছে ‘নাম ফলক’। পুরো বিষয়টি নিয়েই মুখ খুলতে নারাজ কোনও কর্মীই। গত সোমবার অপসারিত হওয়ার পরেও সংসদ চেয়ারম্যান মেরামতি-সহ কয়েক কোটি টাকার বিলে পুরানো তারিখ দিয়ে স্বাক্ষর করছিলেন বলে অভিযোগ করেন অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘের সদস্যরা। ডিপিএসসিতে অপসারিত চেয়ারম্যান লৈক্ষ্যমোহন রায় এসেছেন জেনে তার সঙ্গে, রাজ্যে পালাবদলের পরে, কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলতে যান অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘের রাজ্য কমিটির সহ সম্পাদিকা কাকলি মণ্ডল, জেলা সম্পাদক বিষ্ণু তন্ত্র-সহ জনাকয়েক সদস্য। তাদের অভিযোগ, সে সময় নিয়ম বহির্ভূতভাবে পুরানো তারিখ দিয়ে ৪-৫ কোটি টাকার বিলে সই করছিলেন চেয়ারম্যান। সংগঠনের সদস্যদের কথার সদুত্তর না দিয়ে তিনি দপ্তর ছেড়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে যুব মোর্চার সদস্যরা আসেন। অভিযোগ পেয়ে পুলিশও আসে।

সোমবার চেয়ারম্যানের টেবিলে পাওয়া ফাইলের স্তুপ। ফাইন চিত্র।
বিতর্কে প্রাক্তন সংসদ চেয়ারম্যান। ফাইল চিত্র।

মঙ্গলবার প্রাক্তন সংসদ চেয়ারম্যানের সাফাই, “অপসারণের চিঠি পাওয়ার আগেই আমি পড়ে থাকা কাজ গুলি করছিলাম। কোনও বিতর্কের প্রশ্ন নেই। আজ পদত্যাগ করলাম।”

এদিন এবিষয়ে তৃণমূল প্রভাবিত শিক্ষক সংগঠনের জেলা সভাপতি দীপঙ্কর বিশ্বাস বলেন, “এটা সংসদের আভ্যন্তরীণ বিষয়। আমি কোনও মন্তব্য করব না।” এবিপিটিএ-র জেলা সম্পাদক বিপ্লব ঝা এদিন বাইরে থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভবপর হয়নি।

বিষ্ণু তন্ত্র জেলা সম্পাদক, এভিআরএসএম।

এভিআরএসএমের জেলা সম্পাদক বিষ্ণু তন্ত্র বলেন, “তৃণমূল আমলে ডিপিএসসি ঘুঘুর বাসা হয়ে গিয়েছিল। গতকালের ঘটনা তার বড় প্রমাণ। এরপর থেকে আমরা ডিপিএসসি-র কাজকর্মের ওপরে কড়া নজর রাখবো।”

শ্যামলচন্দ্র রায়, জেলা (প্রাথমিক) বিদ্যালয় পরিদর্শক।

জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক শ্যামলচন্দ্র রায় বলেন, “ফাইলের বিষয়বস্তু ও তালিকা তৈরি হওয়ার পরে তা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে পাঠাব। দুই অফিসের কাজেই যাতে গতি বজায় থাকে তা কর্মীদের নিশ্চিত করতে বলেছি।”

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments