Homeউত্তরবঙ্গ'মাঝ-আষাঢ়েই চা বাগানে বসন্ত'

‘মাঝ-আষাঢ়েই চা বাগানে বসন্ত’

অভিষেক সেনগুপ্ত, জলপাইগুড়ি: কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ পদক্ষেপ। প্রধানমন্ত্রী চা প্রোৎসাহন প্রকল্পের মাধ্যমেই ধুঁকতে থাকা উত্তরের চা বলয় পাবে সঞ্জীবনী বটিকা। বড় পদক্ষেপ নিল ‘শুভেন্দু-সরকার’। এত দিন বাদে এ রাজ্যে বাস্তবায়িত হবে কেন্দ্রীয় যোজনা। চা মহলে বরাদ্দের ঘোষণা হতেই দু’টি পাতা-একটি কুঁড়ির রাজত্বে আশার আলো। ছোট-বড় চা বাগানের সামগ্রিক উন্নয়নে এবারে নজর ডাবল ইঞ্জিন সরকারের। খুশি চা শিল্পপতি, ব্যবসায়ী-সহ সবাই।

বিগত কয়েক দশক ধরেই উত্তরের চা শিল্পে মন্দা। একদিকে কাঁচা চা পাতার দাম না পাওয়া-সহ একাধিক সমস্যায় পড়েছেন ক্ষুদ্র চা চাষিরা। অন্য দিকে বড় বাগান গুলিতেও উত্তরোত্তর বাড়ছিল সমস্যা। এর পাশাপাশি ২০২০-২১ সালে এ রাজ্যে চা শিল্পের উন্নয়নে বরাদ্দ হওয়া অর্থ খরচ না করায় অভিযোগও উঠেছে। ধীরে চায়ের সুদিন নষ্ট হতে বসেছিল বলে অভিযোগ। এ রাজ্যে পালাবদলের পরেই ফের প্রাণবন্ত হয়ে উঠতে চলেছে চা মহল। চা শিল্পের উন্নয়ন, আধুনিকীকরণ, শ্রমিক উন্নয়নে একাধিক কার্যক্রমের কথা ঘোষণা করল শুভেন্দু-সরকার। অসমের ধাঁচে এবারে চায়ের উন্নয়ন হবে এ রাজ্যেও। শুরু হতে চলেছে প্রধানমন্ত্রী চা প্রহোৎসাহন প্রকল্প। এই প্রকল্পে কমবেশি উত্তরের ৬-৭ লক্ষ শ্রমিক উপকৃত হবেন। চা বলয়ে থাকা স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুলিকে আধুনিকীকরণ করে সোলার চালিত করা হবে। শ্রমিকদের শিশু কিশোরদের শিক্ষার মানোন্নয়নে ১১৭ কোটি বরাদ্দ করা হয়েছে বলে শীর্ষ প্রশাসন সূত্রের খবর।চা বলয়ে থাকা স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুলিকে আধুনিকীকরণ করে সোলার চালিত করা হবে। পরিবেশ ও শিশুবান্ধব ক্রেসে শিশুদের নির্বিঘ্নে রেখে ‘ডোগায়’ ভরবেন চা পাতা। সাথে হাল ফিরবে বাগানের বেহাল স্বাস্থ্য পরিষেবারও।

নতুন দিন, নতুন আশা।

ক্ষুদ্র চা চাষি সমিতির সম্পাদক বিজয় গোপাল চক্রবর্তী বলেন, “কেন্দ্র-রাজ্য যৌথভাবে এগিয়ে এলে আবার হৃতগৌরব ফিরবে। শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানোনয়ন হবে। ক্ষুদ্র চা চাষিদের আয় বাড়ায় এলাকার আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন হবে।” তার আরও সংযোজন, এ রাজ্যে ৩৫ শতাংশ চা উত্তরবঙ্গে উৎপাদিত। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৩০-৪০ লক্ষ মানুষ উপকৃত হবে।”

পুরোজিৎ গুপ্তবক্সী, প্রাক্তন মেম্বার, টি বোর্ড।

চা পর্ষদের প্রাক্তন সদস্য পুরোজিৎ বক্সীগুপ্ত বলেন, ‘নতুন সরকার দায়িত্ভাব নিয়েই ভালো পদক্ষেপ নিয়েছে। এক সময় বোর্ডের সদস্য থাকার সময় বেশ কিছু প্রস্তাব দিয়েছিলাম। পর্ষদের কর্মী সংখ্যাতেও ঘাটতি রয়েছে। এখন এলাকাভিত্তিক সার ও কীটনাশক দোকানে কী কী দ্রব্য বিক্রি করা যাবে তার একটা তালিকা করা হলে ও বিক্রেতাদের লাইসেন্স দিলে চায়ের গুণগতমান বাড়বে বলে মনে হয়। অজ্ঞানতা বশত অনেকেই ভুল সামগ্রী কিনে ফেলেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments