সিসিএন তরাই ডুয়ার্স ব্যুরো: পদে পদে বিপদ। সেই বিপদসঙ্কুল হিমালয়ের বুকে থাকা দুর্গম শৃঙ্গ বিজয়ের অভিযানে জলপাইগুড়ি নেচার অ্যাণ্ড ট্রেকার্স ক্লাবের সদস্যরা। হিমাচল প্রদেশের লাহুল-স্পিতি জেলার কাজা অঞ্চলে অবস্থিত দুর্গম শৃঙ্গ ‘চাউ চাউ কাং নিলদা’ (সিসিকেএন) জয়ের জন্য রবিবার ফ্ল্যাগ অফ অনুষ্ঠানে অংশ নিলেন ক্লাব সদস্যরা। ক্লাবের অভিজ্ঞ ও নবীন মিলিয়ে মোট ৯ পর্বতারোহী সোমবার দিল্লির পথে রওনা হবেন। এদিন ফ্ল্যাগ অফ অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন বিধায়ক, ডিএসএ-র সচিব-সহ অন্যরা।

শহরের পর্বতপ্রেমীদের নিয়ে ১৯৮৮ সালে স্থাপনা হয় এই ক্লাবের। ইতিমধ্যেই হিমালয়ের বিভিন্ন এলাকায় থাকা কেদারডোম, চন্দ্রভাগা-১৪, মনিরাং -সহ মোট ১১টি দুর্গম শৃঙ্গে তাদের বিজয় কেতন উড়িয়েছেন ক্লাবের সদস্যরা। এবারে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২০, ৬৭৪ ফুট উচ্চতায় থাকা সিসিকেএনের শিখরে উঠতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাবেন পর্বতারোহীরা। ৯ সদস্যের এই অভিযাত্রী দলের দলনেতা হয়েছেন ভাস্কর দাস। অভিযাত্রী দলের অন্য সদস্যরা হলেন অমিত দাস, জনক কোচ, সৌম্যদীপ দাস,রাগেশ্রী বৈশ্য প্রমুখ। দিল্লি থেকে মানালি যাবেন অভিযাত্রী দলের সদস্যরা। পরে, কাজা হয়ে ১৪,৫০০ ফুট উচ্চতায় থাকা লাংজা গ্রামে পৌছবেন তারা। ওখান থেকেই শুরু হবে ট্রেকিং পর্ব। ১৭৪০০ ফুট উচ্চতায় তৈরি হবে বেস ক্যাম্প। এরপরে আরও দুটো বেস ক্যাম্প করা হবে বলে জানান পর্বতারোহীরা। সব ঠিক থাকলে, শৃঙ্গ জয়ের পরে, ২০ জুন নাগাদ শহরে ফিরে আসবেন পর্বতারোহীরা।

এদিন শহরের বাবুপাড়ায় ক্লাব ভবনে ফ্ল্যাগ অফের অনুষ্ঠান হয়। হাজির ছিলেন জলপাইগুড়ির বিধায়ক অনন্ত দেব অধিকারী, ডিএসএ সচিব ভোলা মণ্ডল, পুরোজিৎ গুপ্তবক্সী, মিহির বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ক্লাবের সদস্য ও পদাধিকারীরা। বিধায়ক বলেন, “ওনারা সুস্থ ভাবে শৃঙ্গ জয় করে ফিরে আসুন, এটাই চাই। এখানে এসে আমি গর্বিত।”

অভিযানের দলনেতা ভাস্কর দাস বলেন, ” আমরা ১২ তম অভিযান শুরু করলাম।জাতীয় ও ক্লাবের পতাকা আমাদের হাতে তুলে দিলেন বিধায়ক। মানালি ও কাজা থেকে আমাদের সঙ্গে গাইড, রাঁধুনি-সহ ৩-৪ জন যাবেন।” ক্লাব সূত্রের খবর, এবারের অভিযানের বাজেট প্রায় ৬ লক্ষ টাকা। কেন্দ্রের ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকেও আর্থিক সহায়তা পাওয়া যাবে বলে আশাবাদী ক্লাব কর্তৃপক্ষ।


