জলপাইগুড়ি: বর্ষায় জঙ্গলের সাপ শহরতলি ও শহরে। কেউ নদীপথে, কেউবা আবার বুকে হেঁটে। রাত-বিরেতে গৃহস্থ বাড়ি থেকে ডাক পড়লে উদ্ধার করতে কালঘাম ছুটছে পরিশপ্রমীদের।এমনটাই দাবি তাদের একাংশের। ওই সাপের একাংশ নির্বিষ প্রজাতির হলেও, কিছু সাপ যথেষ্টই বিষধর। উত্তরবঙ্গের বন-জঙ্গলের স্বাভাবিক পরিস্থিতি নিয়েও কার্যকরী পদক্ষেপ দাবি করছেন পরিবেশপ্রেমীদের একাংশ। এদিকে বন-জঙ্গলের হাল ফেরাতে বনমন্ত্রী যথেষ্ট নজর দিচ্ছেন বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের নেতাদের।

জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় বসতি বেড়েছে। শহরে উন্নয়নের জোয়ার। বাসস্থানের অভাবে এদিক-ওদিক ঢুকে পড়ছে সর্পকূল। বিগত ১৫ বছরে আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে জঙ্গল ও জঙ্ঘলঘেঁষা জায়গায় একাধিক প্রভাবশালীদের রিসোর্ট, বিনোদন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ। তার ওপরে এক শ্রেণির আধিকারিকের মদতে উত্তরের জঙ্গলের একাংশ রীতিমতো ‘গড়ের মাঠ’ হয়ে গিয়েছে বলেও দাবি পরিবেশবিদদের একাংশের।
শহর ও শহর লাগোয়া এলাকা থেকে ইতিমধ্যেই পছন্দের জঙ্গল থেকে শঙ্খিনী, কিং কোবরা, অজগর, কালনাগিনী, কমন উলফ স্নেক-সহ একাধিক সাপ আশ্রয় নিয়েছে শহরে ও শহরতলিতে বলে দাবি। এমনকি শহরের জনবহুল দিনবাজার থেকেও কমন ট্রিঙ্কেটের মতো সাপ উদ্ধার করা হয়েছে সম্প্রতি। জঙ্গল ও লাগোয়া এলাকার সাপ শহরে ঘাঁটি গাড়তে শুরু করায় উদ্বেগে পরিবেশপ্রেমীরা। এর মাঝে শহর ও শহর লাগোয়া এলাকা থেকে জালে অজগরও আটকে পড়ে বলে দাবি তাদের। চা বাগান লাগোয়া এলাকায় রাসায়নিক সারের প্রভাবেও অনেক সাপ সরে আসছে। পরিবেশপ্রেমীদের অভিযোগ, বিগত সময়ে জমির চরিত্র বদল করে জলাভূমিকে বাস্তুতে রূপান্তরিত করে বহুতল নির্মিত হয়েছে। ফলে স্থানীয় সাপেদেরও বাসস্থানের অভাব হচ্ছে। ওদের স্বাভাবিক বাস্তুতন্ত্র বিঘ্নিত হচ্ছে।

পরিবেশপ্রেমী বিশ্বজিৎ দত্ত চৌধুরী বলেন,’জনাদশেক সর্প দংশনের শিকার হয়েছেন বলে আমার কাছে খবর রয়েছে। জঙ্গলের পরিবেশ যথাযথ না করলে এই অবস্থার বদল হবে না। নতুন সরকার পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করুক। কেঁচো খুড়তে কেউটে বের হবে।’ কেন্দ্রীয় স্তরেও পরিবেশ নিয়ে একটি কার্যকরী প্রকল্পের দাবি জানান তিনি।’

জলপাইগুড়ি সায়েন্স অ্যান্ড নেচার ক্লাবের সম্পাদক রাজা রাউত তার টিম নিয়ে নতুন প্রজন্মের মাঝে পরিবেশের প্রয়োজনীয়তার প্রচার চালাচ্ছেন।তিনি বলেন,”নতুন সরকারের কাছে আমাদের অনেক আশা। রাজ্য জুড়ে জলাভূমিগুলির সমীক্ষা হোক। প্রয়োজনে বনাঞ্চলের পরিধি বাড়িয়ে বন্যপ্রাণী-মানুষে সংঘাত কমাক। খাল-বিলের সংস্কারের মাধ্যমে জঙ্গলের বাস্তুতন্ত্রও স্বাভাবিক থাকবে। উন্নয়ন হোক পরিবেশ বান্ধব।” তার আরও দাবি, জমি হাঙরদের চিহ্নিত করে কড়া ব্যবস্থা নিক সরকার।

জেলা বিজেপির মুখপাত্র শ্যাম প্রসাদ বলেন, “দায়িত্ব পেয়েই ইকো-সেনসেটিভ জোন গুলি নিয়ে বিশেষ নজর দিয়েছেন বনমন্ত্রী। রাজ্যের সামগ্রিক প্রাকৃতিক পরিবেশ ফেরাতে একাধিক পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে। কোনও অন্যায়কারীকে ছাড় দেওয়া হবে না।”


