অভিষেক সেনগুপ্ত, জলপাইগুড়ি: সম্প্রতি জলপাইগুড়ির মুকুটে যুক্ত হল আরও এক নতুন পালক। ৬৫ তম ন্যাশনাল এক্সিবিশনে পুরস্কৃত হলেন শহরের চিত্রশিল্পী মৃণাল দে। নয়া দিল্লিতে ললিত কলা একাডেমির পুরস্কারে ভূষিত হলেন তিনি। খোদ রাষ্ট্রপতির হাত থেকে গ্রহণ করলেন এই সম্মান। শহরের গোমস্তা পাড়া মেইন রোড সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা ওই চিত্রশিল্পীকে সংবর্ধনা দিলেন ‘উইংস আর্টিস্ট গ্রুপের’ পদাধিকারী ও সদস্যরা।

আদপে পশ্চিম কংগ্রেস পাড়ার বাসিন্দা তথা চিত্রশিল্পী বর্তমানে গোমস্তা পাড়া রোডের এক বাড়িতে সাময়িক ভাবে রয়েছেন। তার স্ত্রী মনীষাও চিত্রশিল্পী। রয়েছে এক সন্তানও। দেশবন্ধু নগর স্কুলের প্রাক্তনী মৃণাল দের ছোট থেকেই আঁকার প্রতি ঝোঁক। উচ্চ মাধ্যমিক দিয়ে সটান মধ্যপ্রদেশে (অধুনা ছত্তিশগড়) গিয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করার পরে শান্তিনিকেতনে ২০০৭ সাল থেকে ‘ফ্রিল্যান্সিং’ করেন। ২০২১ সালে ফিরে আসেন নিজের শহরে। ইতিমধ্যেই কানাডা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সংস্থার তরফে তাঁর কাজের স্বীকৃতি পেয়েছেন মৃণাল। গত ২১ অক্টোবর ললিত কলা অ্যাকাডেমির তরফে রাষ্ট্রপতি দ্রোপদী মুর্মুর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন তিনি। এই স্বীকৃতি পেয়ে অত্যন্ত আপ্লুত মৃণাল বলেন, “সারা দেশ থেকে দুহাজারের মতো প্রতিযোগী ছিলেন বিভিন্ন ক্ষেত্র মিলিয়ে। তার মধ্যে প্রথমে ২৭০ জন জন ও পরে ২০ জনকে বেছে নেওয়া হয়। অঙ্কন থেকে স্থান পান ১১ জন। এ রাজ্য থেকে তিনি, গোপাল নস্কর-সহ ৩ জন এই সম্মান পান।” তবে, উত্তরবঙ্গ থেকে তিনিই প্রথম বলে দাবি মৃণালের। তরুণ এই চিত্র শিল্পীর আরও সংযোজন, তার ছবিতে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, সমাজ, হাস্যরস সমন্বিত ব্যাঙ্গাত্মক চিন্তাভাবনার প্রতিফলন ঘটে। দেশে-বিদেশে তার ছবির প্রদর্শনীও হয় ধারাবাহিক ভাবে। তার এই ঘরানা পরবর্তী প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ুক, এটাই চান তিনি। তবে সময়ের অভাবে কাউকে শেখানোর সুযোগ তিনি পাচ্ছেন না বর্তমানে। জলপাইগুড়ির অন্য চিত্রশিল্পীরাও নিজস্ব আঙ্গিকে ভালো কাজ করছেন বলে অভিমত মৃণাল দে-র।

শহরে ফেরার পরেই তার বাসভবনে হাজির হন উইংস আর্টিস্ট গ্রুপের দীপঙ্কর বসু বিশ্বাস, অমরনাথ নন্দী, নীলোৎপল রায়-সহ অন্যরা। জলপাইগুড়ি তথা উত্তরবঙ্গের একমাত্র চিত্রশিল্পী হিসাবে মৃণাল দের সম্মানে খুশি তারাও। দীপঙ্কর বলেন, “উনি আমাদের গর্ব। উত্তরের শিল্পীরা যে কোনও অংশে কম প্রতিভাসম্পন্ন নন, এই সম্মান সেই বার্তাই দেয়।”(ছবি:সংগৃহীত)


