সিসিএন তরাই ডুয়ার্স ব্যুরো: মায়ের মৃত্যুশয্যায় দেওয়া এক প্রতিশ্রুতি। এক দশকে তা-ই বদলে গেল এক বিশাল কর্মযজ্ঞে। মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় সাড়ে ৬ লাখেরও বেশি চারাগাছ রোপণ করেছেন তিনি। বলিউডের প্রখ্যাত অভিনেতা সয়াজি শিন্ডের ‘মিশন সহ্যাদ্রি দেবরাই’ আবারও নতুন করে ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। ‘শূল’, ‘সরকাররাজ’ খ্যাত অভিনেতার ‘মিশন’ আজ সে রাজ্যের বৃহত্তম দেশি গাছের আন্দোলন।
যে বন্ধ্যা জমি একসময়ে খা খা করত, আজ সেখানে সবুজের সমারোহ। ফিরে এসেছে বন্যপ্রাণীরাও। সয়াজি জোর দিয়েছিলেন দেশীয় প্রজাতির বৃক্ষরোপণে। বট, অশ্বত্থ, তেঁতুল-সহ একাধিক দেশীয় প্রজাতির গাছই লাগিয়েছেন তিনি। সয়াজি জানেন, চারাগাছ লাগানো সহজ কিন্তু তাকে বাঁচিয়ে বড় করে তোলাটা কঠিন। সেজন্য লক্ষ্যপূরণে মিশনে সামিল করেছেন গ্রামবাসীদেরও। মিশন সহ্যাদ্রি দেবরাইয়ে গাছের পরিচর্যার দায়িত্বে রয়েছেন অসংখ্য গ্রামীণ মানুষ।
সূচনা যেভাবে:
২০১৫ সালে মায়ের ইচ্ছে পূরণে নিজের গ্রামে ২ হাজার গাছ লাগান কৃষক পরিবারের সন্তান সয়াজি শিন্ডে। কথা ছিল, ৫ হাজার গাছ লাগানোর। লক্ষ্য পূরণ হলেও থামেননি শিন্ডে। মহারাষ্ট্রের ২৯টি জায়গায় ৬.৫ লক্ষ গাছ ইতিমধ্যেই লাগিয়ে ফেলেছেন তিনি।

কী বলছেন সয়াজি?
সাতারার এক কৃষক পরিবারের সন্তান সয়াজি শিন্ডে। সিনেমা জগতে আসার আগে সেচ দফতরে ওয়াচম্যান হিসেবে কাজ করতেন তিনি। বেতন সাকুল্যে ১৬৫ টাকা। ১৯৭৮ সালে সরকার ড্যাম নির্মাণে তাদের জমি অধিগ্রহণ করে। তার বদলে দীর্ঘ লড়াই করে জমি পান ৩৫ বছর পরে। সয়াজি জানান, সবাই যখন নাম ও খ্যাতির প্রত্যাশী। তিনি এর থেকেও বেশি বড় কিছু করতে চেয়েছিলেন।
কিভাবে ভাইরাল তার কাজ?
চলতি বছরে জাতীয় স্তরের একাধিক সংবাদমাধ্যমে সয়াজির এই মিশনের কথা পুনরায় প্রকাশিত হয়। সেই খবর গুলিই ফের ভাইরাল হয় সমাজ মাধ্যমে। সয়াজি শিন্ডের কর্মকাণ্ডকে কুর্নিশ জানিয়েছেন নেটিজেনরা।
ছবি সৌজন্যে: সমাজমাধ্যম।


