জলপাইগুড়ি: এই শহরের ল’ কলেজ থেকেই হাতেখড়ি রাজনীতিতে। এই কলেজেই রয়েছে নানা স্মৃতিও। জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার পরে, বুধবার ল’কলেজে এসে আড্ডা দিয়ে গেলেন করণদিঘির বিধায়ক বিরাজ বিশ্বাস। তার কাছে কলেজের একাধিক সমস্যার কথা তুলে ধরলেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। সবার সমস্যার কথা শুনে সমাধানের প্রতিশ্রুতিও দিয়ে গেলেন কনিষ্ঠতম বিধায়ক।

আকাশে তখন রোদ-মেঘের লুকোচুরি খেলা। মধ্য গগনে থাকা সূর্য হাল্কা হেলেছে পশ্চিমে। শহরের বেগুনটারি মোড় সংলগ্ন এলাকায় থাকা জলপাইগুড়ি আইন মহাবিদ্যালয়ের অপরিসর রাস্তায় এসে থামল করণদিঘির বিধায়কের গাড়ি। নেমেই খানিক স্মৃতিমেদুর হয়ে গেলেন বিধায়ক বিরাজ বিশ্বাস। মূল ভবনের সিঁড়িতে প্রণাম করে ঢুকলেন অধ্যক্ষের চেম্বারে। তার আগে একপ্রস্ত সৌজন্য বিনিময় করলেন শিক্ষাকর্মীদের সঙ্গেও। প্রণাম জানালেন একসময়ের শিক্ষাদাতাদেরও। পরে, বিরাজকে নিয়ে মিটিং রুমে বসে অন্য অধ্যাপক ও চুক্তিভিত্তিক অধ্যাপকদের সঙ্গে নিয়ে কলেজের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করলেন অধ্যক্ষ ড. অভিজিৎ ভট্টাচার্য। তার আগে প্রাক্তন ছাত্রকে ফুলের তোড়া-সহ একাধিক উপহারে সংবর্ধনাও জানাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। শহরের জনবহুল এলাকায় অপর্যাপ্ত জমিতে দীর্ঘদিন ধরেই পঠনপাঠন চলছে এই কলেজে। এলএলবি থেকে পিএইচডি, বর্তমানে একাধিক কোর্স চালু রয়েছে। তবে ঘাটতি রয়েছে পরিকাঠামোয়। জেলা তথা উত্তরবঙ্গের একমাত্র কেন্দ্রীয় স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এই কলেজে নেই কোনও সেমিনার রুম। টয়লেট, ওয়াশরুমেরও পুনর্গঠন প্রয়োজন। কলেজ কর্তৃপক্ষের অনুযোগ, আগের সরকারের আমলে বারবার এ বিষয়ে বারবার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও আশ্বাস ছাড়া আর কিছুই মেলেনি। প্রাক্তন ছাত্র রাজ্যের শাসকদলের বিধায়ক হওয়ায় এবারে আশা দেখছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

অধ্যক্ষ ড. অভিজিৎ ভট্টাচার্য বলেন, ‘এ রাজ্যে বিভিন্ন নীতি নির্ধারণে আমাদের প্রাক্তনীদের অবদান থাকবে, এটা গর্বের বিষয়। কলেজের জমি সমস্যা-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে দাবি জানালাম বিধায়ক তথা প্রাক্তনীকে। ও সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।’ অধ্যক্ষের আরও সংযোজন, এর আগে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু থেকে শিলিগুড়ির মেয়র তথা মন্ত্রী গৌতম দেবের কাছে ৩ একর জমির জন্য দরবার করেও লাভ হয়নি। ওই পরিমাণ জমি পেলেই উন্নতমানের ও আধুনিক সুবিধাযুক্ত আইন কলেজ গড়ে তোলা সম্ভব। ক্যাম্পাসিংয়ের ব্যবস্থাও করা যাবে বলে দাবি অধ্যক্ষের। তিনি জানান, জেলা প্রশাসন, এসজেডিএ, এমনকি জলপাইগুড়ি গভর্নমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের হাতেও অনেক জমি রয়েছে। আইন কলেজকে ৩ একর জমি বরাদ্দের বিষয়ে পদক্ষেপ করার অনুরোধ করেন করণদিঘির বিধায়ককে।

পরে, বিধায়ক বলেন, ‘এখানে আমার ছাত্র জীবনের অনেক স্মৃতি রয়েছে। পুরানো জায়গায় এসে অন্যরকম অনুভূতি হচ্ছে। তবে, এখানে পরিকাঠামোগত অনেক সমস্যা রয়েছে। ৫ স্টার রেটিং একটা কলেজে কোনও ক্যাম্পাস নেই। আমি নিজেও ভুক্তভোগী। শুধু বিধায়ক হিসেবে নয়, এই কলেজের প্রাক্তনী হিসেবেও আমি এই বিষয়টি নিয়ে যতদূর যাওয়ার যাবো। এদিন নিজেদের সমস্যার কথা করণদিঘির বিধায়ককে জানান চুক্তিভিত্তিক অধ্যাপকেরাও। সবার অভাব-অভিযোগ শুনে সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতিও দিয়ে গেলেন বিধায়ক।


