কোন এক সময়ে উত্তর আমেরিকার দক্ষিণ অংশে মেক্সিকোতে বসবাস করতেন কোরা নামে এক জনজাতি। ওই নোমাডিক মানুষেরা ঘুরতে ঘুরতে একদা থিতু হয়েছিলেন উড়িষ্যায়। ওই স্বাধীনচেতা বনবাসীরা আড়কাঠিদের ষড়যন্ত্রে স্থান পায় ডুয়ার্সের চা বাগানে। কিন্তু চা বাগানের বদ্ধ জীবন তাদের আটকে রাখতে পারেনা। তারা পালিয়ে যায় বনে জঙ্গলে। অবশেষে থিতু হন লাটাগুড়ির বিচাভাঙ্গাতে।

গরুমারা জাতীয় উদ্যানের এক প্রান্তে লাটাগুড়ির রেল লাইনের ধারে বিচাভাঙ্গা। স্থানীয় ভাষায় বিচা শব্দের অর্থ হলো অন্ডকোষ। বাঁশ ঝাড় থেকে বাঁশ কাটার সময়ে বাশ টানতে গিয়ে ফেটে গিয়েছিল কার অণ্ডকোষ,তা জানা না গেলেও বিচাভাঙ্গা আধুনিক ভাষায় হয়েছে বিছাভাঙ্গা।
ওই বিচা ভাঙ্গা বনবস্তিতে বন বিভাগের প্রয়োজনে থিতু হয়েছিলেন জেনা পাইক। পাইক ও কোরা তাদের বংশগত পদবি । ইন্দ্র -হীরামতী,মঙ্গল -কমলা, লোবো -সুশীলাদের প্রায় আড়াইশো ভোটার নিয়ে বিচাভাঙ্গা বুথ (এস ২৫)। কেউবা কোরা,কেউবা পাইক।
বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ও গবেষক সন্তোষ রানা এবং কুমার রানা ওদের আদিবাসী বলে উল্লেখ করেছেন, তবে তারা উপজাতি সম্প্রদায়ের মানুষ নন বলে দাবি করা হয়। এরা পরিপূর্ণভাবে শিবভক্ত। বাৎসরিক সর্বজনীন শিব পূজার সময় এরা মুরগীর মাংস ও ভাত মহাদেবকে ভোগ নিবেদন করে থাকেন। বিবাহিত মেয়েরা নিরম্বু উপবাসে থেকে ভোগ নিবেদন করেন।

বনবস্তিবাসী হওয়ায় বুনোদের সঙ্গে ওদের নিত্য সহবাস। তবে বন্যপ্রাণীরা কেউ কারোরই ক্ষতি করে না। বিশালাকায় হাতি তাদের বাড়ির চারপাশে খাদ্য সংগ্রহ করলেও ওদের বাড়িঘরের কোন ক্ষতি করে না।


এরকম পাঁচটি জনজাতির সমাজ ও সংস্কৃতি নিয়ে একটি গবেষণামূলক বই লিখেছেন উমেশ শর্মা। গ্রন্থটিতে অসুর, বেদে, ইরানি ও কোরাদের পরিচয়, সমাজ ও সংস্কৃতির অনালোকিত বিষয়ে আলোকপাত করেছেন লেখক। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছে।
লেখক: উমেশ শর্মা, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, প্রাবন্ধিক ও গবেষক।


