অভিষেক সেনগুপ্ত, জলপাইগুড়ি: মায়ের আগমনী বার্তার সঙ্গেই কর্মস্থল মধ্যপ্রাচ্য থেকে সস্ত্রীক ফিরেছে ছেলে। বাড়িতে আনন্দের আবহ। সেই আবহেই নিজের নতুন কবিতার বইয়ের ঘরোয়া উদ্বোধন করলেন কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রায়ত্ত বিমা সংস্থার আধিকারিক তথা সাহিত্যিক নির্মাল্য ঘোষ। একদিকে মহাসপ্তমী, অন্যদিকে পরিবারের কর্তার লেখা কবিতার বইয়ের প্রকাশে খাবারে বিশেষ মেনু কদমতলা লাগোয়া পাহাড়ি পাড়ার ঘোষ বাড়িতে।

শনিবার সকালে স্ত্রী শ্রাবন্তী ঘোষ, মেয়ে শ্রেয়া, ছেলে দেবমাল্য ও নববিবাহিতা পুত্রবধূ হাইকা নাজ প্রধানকে সঙ্গে নিয়ে ‘ঘুম শেকড়ের রূপকথা’ নামে এক কবিতার বই ঘরোয়াভাবে প্রকাশ করেন ওই বীমা সংস্থার সহকারি ডিভিশনাল ম্যানেজার নির্মাল্য ঘোষ। স্বর্গীয়া মা অলকা ঘোষকে এই বইটি উৎসর্গ করেছেন তিনি। তাঁকে এখন উৎসাহ দেন স্ত্রী শ্রাবন্তী। এর আগে ‘নির্বাচিত গল্প সমগ্র, স্বল্প কথার গল্প’-সহ একাধিক গল্প ও কবিতার বই প্রকাশ করেছেন তিনি। এছাড়া ইংরেজিতে লেখা কবিতা ও গল্পের একটি বইও এর আগে প্রকাশিত হয়েছেন।

বাবার এই সাহিত্যসত্ত্বায় যারপরনাই খুশি ছেলে, মেয়ে, পুত্রবধূও। মেয়ে শ্রেয়া বলেন, ‘আমি বরাবরই দেখে এসেছি, একটু সময় পেলেই বাবাকে লিখতে বসতে। এটা বাবার ‘প্যাশন’। এই পুজোয় আরেকটি বই প্রকাশ হল। বেশ ভালো লাগছে। পুত্রবধূ হাইকা নাজ প্রধান বলেন, ‘ কাজের চাপের মাঝেও বাবা অবলীলায় লিখে চলেছেন। আমারও ইচ্ছে, একদিন বাবার মতো লেখালেখি করার। দুবাইয়ে সিনিয়ার সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত দেবমাল্য বলেন, ‘লেখালেখির মধ্যে থাকলে জীবনের প্রতি ধারণাটাই বদলে যায়। মানুষ ও সমাজকে নতুন করে উপলব্ধি করা যায়।”

নির্মাল্য ঘোষ বলেন, ‘ত্রিপুরার আগরতলার ‘দৈনিক বজ্রকন্ঠ’ পত্রিকার রাজেশ চন্দ্র দেবনাথের প্রস্তাবে সাড়া দিয়েই আমি বইটি প্রকাশ করলাম। এতে বেশ কিছু অপ্রকাশিত কবিতা রয়েছে। কমার্স কলেজের উল্টোদিকের এক ম্যাগাজিনের দোকানে এটি পাওয়া যাচ্ছে। আশা করি কবিতাপ্রেমীদের ভালো লাগবে বইটি।
এদিকে মহাসপ্তমী ও বই প্রকাশের উৎসাহে পরিবারের সকলের জন্য হেঁসেলে সকাল থেকেই তৎপরতা শ্রাবন্তী ঘোষের। পোলাও, ভাঁপা ইলিশ-সহ নানা পদে জমে উঠবে ঘোষবাড়ির মহাসপ্তমীর দুপুর।


