জলপাইগুড়ি: অস্থায়ী ভিত্তিতে এক স্কুল থেকে অন্য স্কুলে বদলি হওয়া শিক্ষকদের ফের মূল স্কুলে ফেরার নির্দেশ। বুধবার রাতে এই নির্দেশ সামাজিক মাধ্যমে আসতেই শোরগোল পড়ে যায় শিক্ষক মহলে। এক সময়ে শিক্ষার স্বার্থে কিম্বা শিক্ষকদের একাংশের নানা সমস্যার কারণে জেলার দুই শতাধিক শিক্ষককে এক স্কুল থেকে অন্য স্কুলে ‘পেপার ট্র্যান্সফার’ করে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ। কেউ ৪ বছর, কেউ ৫, ১০ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে শিক্ষাদান করছেন। হঠাৎ করে ২৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের মূল স্কুলে ফেরত যাওয়ার নির্দেশিকা বের করেন ডিপিএসসি-র সচিব শ্যামলচন্দ্র রায়। তাতে বলা হয়, ডিপিএসসি বা এসআই অফিস থেকে বদলিপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পুনরায় মূল স্কুলে ফিরে যেতে হবে। তবে ইংরাজি মাধ্যমের স্কুল, রাষ্ট্রীয় উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ও জেলা স্কুলে অস্থায়ী বদলিতে থাকা শিক্ষক ও বেশ কিছু ক্যাটেগরির রোগাক্রান্ত শিক্ষকদের ছাড় দেওয়া হয় নির্দেশিকায়। এই নির্দেশিকা ঘিরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বিক্ষোভের সুর চড়তে থাকে। পরে ভুক্তভোগী শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে সেই নির্দেশিকা প্রত্যাহার করে নেয় সংসদ কর্তৃপক্ষ।

জেলায় ১২ শতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। কোথাও শিক্ষার স্বার্থে, কোথাওবা শিক্ষকদের নিজস্ব কিছু সমস্যার কারণে তাদের বিভিন্ন সময়ে মূল স্কুল থেকে অন্যত্র বদলি করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে সে সব স্কুলের পঠনপাঠন-সহ যাবতীয় কাজ সামলেছেন শিক্ষকেরা। পাশাপাশি সরকারি নির্দেশে নিবাচন ও সেনসাসের ডিউটিও করেছেন। গত বুধবার হঠাৎই এক নির্দেশিকা জারি করা হয় সংসদের পক্ষ থেকে। জেলার বিভিন্ন সার্কেলের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকদের নির্দেশ দেওয়া হয় আগামী ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অস্থায়ী বদলিপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মূল স্কুলে ফেরানোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য। মূল স্কুলে যোগদান করে ‘রি-জয়েনিং লেটার’ সাবমিট করতে বলা হয় ২৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। এরপরই বিক্ষোভ ছড়ায় প্রাথমিক শিক্ষকদের একাংশের মধ্যে। জনৈক শিক্ষিকা বলেন, কোভিডের সময় শিক্ষার স্বার্থে আমাকে মূল স্কুল থেকে অন্য স্কুলে আনা হয়। এখন আবার ফিরে যেতে বলা হচ্ছে।’ মূল স্কুলে যোগদান করার পরে বেতন মিলবে বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ থাকায় আরও অসন্তোষ ছড়ায়। এদিন স্কুল টাইমের পরে ডিপিএসসিতে গিয়ে সচিব তথা ডিআই (প্রাইমারি) শ্যামলচন্দ্র রায়ের সঙ্গে উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষক। নিজেদের সমস্যার কথা জানানোর পাশাপাশি চলে সাময়িক বিক্ষোভও। শিক্ষকদের একাংশ বলেন, ‘বেশ কিছু স্কুলে থাকা প্রাথমিক শিক্ষককে ছাড়ের আওতায় রাখা হয়েছে। প্রয়োজনের সময়ে শিক্ষার স্বার্থে আমরা মূল স্কুল ছেড়ে অন্য স্কুলে বছরের পর বছর শিক্ষাদান সহ সব কাজ করলাম। আমাদের ওই সব স্কুলে স্থায়ী না করে অন্যদের স্থায়ী পদে নিয়োগ দেওয়া হল। এটা অনৈতিক। আজ আমাদের আবার ফেরত পাঠানো হচ্ছে। আমাদেরও অনেক সমস্যা রয়েছে, সেগুলো আজ গুরুত্ব পাচ্ছে না।” জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দুই শতাধিক শিক্ষক এদিন ডিপিএসসিতে জমায়েত করেন। এ ধরণের নির্দেশ আদালতে ‘চ্যালেঞ্জ’ হতে পারে বলে মত প্রকাশ করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষকদের একাংশ। আন্দোলনকারীদের তরফে সুপ্রতিম সাহা, চন্দন কুমার ঘোষ, নুর ইসলাম-সহ দাবি, ডিপিএসসির সচিব আমাদের কথা শুনেছেন। পুরো পরিস্থিতিটা তাকে বোঝানো হয়েছে। পরে এই নির্দেশিকা তিনি প্রত্যাহার করেন। আমরা বর্তমানে যে যে-স্কুলে রয়েছি সেখানেই কাজ করব।

ডিপিএসসি-র সচিব তথা ডিআই শ্যামলচন্দ্র রায় বলেন, “শিক্ষার স্বার্থের পাশাপাশি শিক্ষক শিক্ষিকাদের সুবিধে-অসুবিধার দিকটা দেখাও আমাদের কর্তব্য। আলোচনা সাপেক্ষে পূর্বতন বদলির নির্দেশ প্রত্যাহার করা হল।”


