অভিষেক সেনগুপ্ত, জলপাইগুড়ি: বিপন্ন নদী ও প্রকৃতি। রং, তুলি, কুইজে সচেতনতার বার্তা। এই জেলা সহ দেশের একাধিক নদী বিপন্ন। এদিকে বিষাক্ত পার্থেনিয়ামে ছেয়েছে বিভিন্ন এলাকা। উন্নয়নের জেরে কংক্রিটের জঙ্গল বাড়ায় স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হচ্ছে প্রকৃতিরও। এ বিষয়ে পড়ুয়াদের সচেতন করতে এক অঙ্কন ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করল জলপাইগুড়ির সায়েন্স অ্যান্ড নেচার ক্লাব। এর পাশাপাশি, এদিন পড়ুয়া ও অভিভাবকদের একাংশকে ক্রেতা ও উপভোক্তা সুরক্ষা বিষয়েও সচেতন করা হয় সংশ্লিষ্ট দফতরের পক্ষ থেকে।

রবিবাসরীয় সকালে শহর জলপাইগুড়ির আশালতা বসু বিদ্যালয়ে দুদিনের এই কর্মসূচির সূচনা হয় বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে। হাজির ছিলেন আয়োজক সংগঠনের সম্পাদক রাজা রাউত, আহ্বায়ক দেবাশিস গুহ, ডা. গৌতম ঘোষ, শৈবাল কুন্ডু, ওই বিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল রাখি শর্মা আইচ, ভাইস প্রিন্সিপাল আল্পনা নাগ দাশ-সহ অন্যরা। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ক্রেতা সুরক্ষা ও উপভোক্তা বিষয়ক দপ্তরের সহ-অধিকর্তা দেবাশিস মণ্ডল।

তিনি বলেন, ‘এই ধরণের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। সায়েন্স অ্যান্ড নেচার ক্লাব বছরভর নানা কর্মসূচি নেয়। আমরা এই কর্মসূচিতে ক্রেতাদের সচেতন করলাম। ভালো সাড়া মিলেছে। জিনিস কিনে কারও কোন সমস্যা হলে আমাদের দফতরে যোগাযোগ করার কথাও বলা হল।’
আয়োজক সংগঠনের প্রয়াত সদস্য ভাস্কর বসাকের স্মরণে এক দশক ধরে এ ধরণের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানান রাজা রাউত। তার কথায়, পড়ুয়াদের বিজ্ঞানমনস্ক করতে ও পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসার জন্য সচেতন করতেই রং, তুলিকে মাধ্যম করা হয়েছে। সাধারণ জ্ঞান ও পরিবেশের ওপর কুইজও করা হচ্ছে। ক্রেতা সুরক্ষা বিষয়েও সচেতন করা হল। অঙ্কন ও কুইজ মিলিয়ে বিভিন্ন স্কুল থেকে চার শতাধিক পড়ুয়া অংশ নেয় বলে দাবি রাজা রাউতের। প্রতিযোগিতায় স্থানাধিকারীদের পুরস্কৃত করা হবে।

এই কর্মসূচিতে বিপন্ন নদী, পার্থেনিয়াম নির্মূলকরণ, বিজ্ঞানমনস্কতা, পরিবেশ ও বন্যপ্রাণ বিষয়কে সামনে রেখে কর্মসূচিটি আয়োজিত হয়। পাশাপাশি ক্রেতাদের সচেতনও করা হয়। সোমবার প্রতিযোগিতার স্থানাধিকারীদের পুরস্কৃত করা হবে বলে জানায় আয়োজক সংগঠন।


