জলপাইগুড়ি: সোমবার ছিল অধিবাস। মঙ্গলবার ঘটা করে করম পুজো আয়োজিত হল শিকারপুরের কুন্দরদিঘি, ঢোপের হাটে। উরাও ক্ষত্রিয় সমাজ সমিতি ও বনবাসী কল্যাণ আশ্রমের পরিচালনায় আয়োজিত এই পুজোয় বড়দের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই প্রাচীন পুজোয় শামিল হল এলাকার খুদেরাও। ঘট, কলাগাছ, আমপল্লব দিয়ে সাজানো মারোয়ার ভেতরেই করম গাছের ডাল পুতে দেওয়া হয়। তারপরে শুরু হয় পুজো। সবাই উপোস করে অংশ নেন এই রাত্রিকালীন পুজোয়। সূর্যোদয় পর্যন্ত পুজোর পাশাপাশি চলে যৌথ নাচ। করম নাচের মাধ্যমে গৃহ ও কৃষিকাজকে ফুটিয়ে তোলেন আদিবাসী শিল্পীরা। এদিন সন্ধ্যায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও বিশেষ অতিথি হিসেবে আরএসএসের তরুণদল বসতির প্রমূখ অজয় সাহা, বর্ষীয়ান সদস্য চন্দন রায়-সহ অন্য সদস্য সদস্যারা শহর থেকে শিকারেপুরে উপস্থিত ছিলেন।

চন্দন রায় বলেন, “এটি বনবাসী সমাজের মূলত শিবপুজো। করম গাছের নীচেই কঠোর আরাধনা করে শিবকে পতিরূপে লাভ করেন মা পার্বতী। ওঁরা যাতে ওদের পরম্পরা, সংস্কৃতিকে বজায় রাখতে পারে, সেজন্যই ওদের উৎসাহ দিতে আমরা এসেছি।”
হাজির ছিলেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের তরফে জলপাইগুড়ি নগর সভাপতি ললিত সিংহি সহ অন্যরাও। ললিত সিংহি বলেন, “করম পুজো উপলক্ষ্যে সমগ্র সনাতনী আদিবাসী সমাজকে শুভেচ্ছা। ওরাও মানব কল্যাণেই পুজো করছে আমরা এই পুজোয় সামিল হলাম।’

জনৈকা ভক্ত সুন্দরী ওঁরাও বলেন, ‘ভাদ্রের শুক্ল একাদশীতে এই পুজো হয় সব মিলিয়ে তিনদিন ধরে। করমের তিন ডালে ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বরের পুজো হয়। ভালো ফলনের জন্য প্রার্থনা করা হয়। সমাজের মঙ্গল কামনাও করি।”

খুদে ভক্ত ঋত্বিকা তির্কি বলে, ‘জল ভরা, পুজোর স্থানের সাজসজ্জা, জল ভরতে যাওয়া-সহ নানা কাজ করি আনন্দে। উপোসও করে থাকি।
জনৈক বাসিন্দা জানান বিসর্জনের আগে করমের ডাল বাড়ি বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর বিসর্জন হবে বুধবার।


