অভিষেক সেনগুপ্ত, জলপাইগুড়ি: সম্প্রতি কলকাতায় প্রয়াত হয়েছেন উত্তরবঙ্গের বিশিষ্ট চা-বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিক, লেখক ও সমাজসেবী রাম অবতার শর্মা। রবিবার তাঁর স্মরণসভা আয়োজিত হল নেতাজী সুভাষ ফাউন্ডেশনের হলঘরে। নিখিল ভারত বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলন ও শহরের এক শতাব্দী প্রাচীন পত্রিকার উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন প্রয়াত রাম অবতার শর্মার পরিবারের সদস্যরাও।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে প্রয়াত হন এই বহুমুখী প্রতিভাধর মানুষটি। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। চা শিল্পের জীবন্ত এনসাইক্লোপিডিয়া” হিসেবে সুপরিচিত রাম অবতার শর্মার হাত ধরেই নয়া দিশা পায় একসময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া হিলা চা বাগান। ৫ দশকের বেশি সময় ধরে চা শিল্পের উন্নয়নে কাজ করেছেন তিনি। সরস্বতীপুর, জুরন্তির পাশাপাশি অসমের বিভিন্ন চা বাগানে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৪ সালে পশ্চিমবঙ্গ চা উন্নয়ন নিগম লিমিটেডের ৫টি সরকারি চা বাগানের জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে অবসর নেন। পরবর্তীতে আইটিপিএ-র সচিবের দায়িত্বও সামলান তিনি। এর পাশাপাশি জলপাইগুড়ি থেকে প্রকাশিত জনমত পত্রিকার সম্পাদনাও করেছেন একসময়। নিখিল বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলনের সহ-সভাপতি ও আজীবন সদস্যও ছিলেন তিনি। চা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে ২৫টি গ্রন্থও লিখেছেন তিনি।


এদিন ফাউন্ডেশনের হলঘরে তাঁর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান হয়। তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরেন বক্তারা। এদিনের অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তথা সমাজসেবী দেবপ্রসাদ রায় বলেন, “অপূরণীয় ক্ষতি হল। শুধু স্থানীয় সমস্যা নয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও তাঁর লেখা সমাদৃত হয়েছে। তবে প্রতিভার স্ফূরণ সেভাবে হল না।’ এদিনের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুবর্ণ রঞ্জন বণিক। ছিলেন প্রয়াতের ভাই কিশোরীলাল শর্মা, আইনজীবি কমল কৃষ্ণ বন্দ্যোপাধ্যায়, তপন কুমার চক্রবর্তী-সহ আরও অনেকে।
আয়োজক সংগঠনের তরফে প্রাক্তন বিধায়ক গোবিন্দ রায় বলেন, ” বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন রাম অবতার শর্মা। তাঁর অকাল প্রয়াণে আমরা শোকস্তব্ধ। আজ স্মরণসভার মধ্য দিয়ে তাঁকে শ্রদ্ধা জানালাম।”


